নতুন ছবি ‘দায়রা’ মুক্তির আগে সিনেমার গল্প বাছাই এবং দর্শকদের পছন্দ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলেন অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন, অভিনেত্রী কারিনা কপূর খান এবং পরিচালক মেঘনা গুলজার। সেই আলোচনাতেই পৃথ্বীরাজ জানিয়ে দিলেন, সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর এমন একটি ছবি মুক্তি পেলে তিনি প্রথম দিন (Amitabh-Rekha), প্রথম শোতেই তা দেখতে যাবেন। সেই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন এবং রেখাকে একসঙ্গে দেখার আগ্রহের কথাই জানান অভিনেতা।
আলোচনার মূল বিষয় ছিল শক্তিশালী গল্প এবং ভালো লেখার উপর ভরসা করা। একটি ছবি তৈরি করতে অভিনেতা এবং প্রযোজক কী ভাবে একটি গল্পকে সমর্থন করেন, তা নিয়েও কথা হয়। কারিনা বলেন, বর্তমান সময়ের দর্শককে অনেকেই যতটা সহজ-সরল ভাবেন, বাস্তবে তাঁরা তার থেকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। তাঁর মতে, এখনও কিছু প্রযোজকের মধ্যে পুরনো ধারণা রয়েছে যে ছবিতে তরুণ নায়ক এবং তরুণ নায়িকা থাকলেই দর্শক সেই ছবি দেখতে আগ্রহী হবেন।
কারিনার কথায়, বর্তমান সময়ে সেই ধারণা আর আগের মতো কাজ করে না। দর্শক এখন ভালো গল্প, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং নতুন ধরনের বিষয় দেখতে চান। তাই শুধু অভিনেতা-অভিনেত্রীর বয়স বা তারকা-পরিচিতির উপর নির্ভর করে একটি ছবির সাফল্য বিচার করা ঠিক নয় বলেই মত তাঁর (Amitabh-Rekha)।
অমিতাভ বচ্চন এবং রেখার Amitabh-Rekha প্রসঙ্গও এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। হিন্দি ছবিতে তাঁদের জুটি একসময় বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘মুকদ্দর কা সিকন্দর’ এবং ‘সিলসিলা’র মতো ছবিতে তাঁদের অভিনয় এবং পর্দার রসায়ন দর্শকদের মধ্যে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দর্শক এবং সংবাদমাধ্যমে প্রবল আগ্রহ ছিল।
এই প্রসঙ্গেই পৃথ্বীরাজ জানান, অমিতাভ বচ্চন এবং রেখাকে (Amitabh-Rekha) নিয়ে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর কোনও ছবি তৈরি হলে তিনি তা প্রথম দিন, প্রথম শোতেই দেখতে চাইবেন। অভিনেতার এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কারিনা আরও বলেন, এখনও কিছু প্রযোজক মনে করেন, ছবিতে তরুণ পুরুষ এবং মহিলা অভিনেতা না থাকলে সেই ছবি দর্শকের কাছে পৌঁছবে না। কিন্তু তাঁর মতে, বর্তমান দর্শকের পছন্দ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গল্প ভালো হলে বয়স বা প্রচলিত তারকা-সমীকরণ সবসময় ছবির সাফল্যের পথে বাধা হয় না।
মেঘনা গুলজারও একই আলোচনায় লেখকদের পাশাপাশি অভিনেতা এবং প্রযোজকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, লেখকেরা নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। প্রচলিত ছক ভেঙে নতুন গল্প বলার চেষ্টাও থাকে। কিন্তু সেই গল্পকে পর্দায় নিয়ে আসতে অভিনেতা এবং প্রযোজকদের সমর্থন প্রয়োজন। একটি ভালো ছবি তৈরি আসলে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলেই মনে করেন তিনি।
‘দায়রা’র গল্পেও সেই শক্তিশালী লেখার ছাপ রয়েছে। ছবির প্রকাশিত ঝলকে দেখা যায়, দুই পুলিশ আধিকারিক সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করছেন। কারিনা কপূর খান অভিনয় করেছেন উপ-পুলিশ কমিশনার অজুনি কোহলির চরিত্রে। পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে দেখা যাবে উপ-পুলিশ কমিশনার রমন কুমারের ভূমিকায়।
মামলাটি একটি পুলিশি সংঘর্ষকে ঘিরে শুরু হলেও তদন্ত এগোতেই দুই আধিকারিকের দায়িত্ববোধ, আইন এবং ন্যায়বিচার নিয়ে মতবিরোধ সামনে আসে। তাঁদের কাজের ধরনও একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বলে দেখা যায়।
এর মধ্যেই একটি পরিবার তাদের নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের কাছে সাহায্য চায়। তদন্ত যত এগোয়, ততই মামলাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই পথে দীর্ঘদিন ধরে এক অভিযুক্তের সক্রিয় থাকার তথ্যও সামনে আসে।
ছবির গল্পে কিশোর অপরাধীদের নিয়ে আইনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠলে, এমনকি ধর্ষণ এবং খুনের মতো অভিযোগ থাকলেও, কিশোরদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষার আইন কতটা প্রযোজ্য হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও ছবিতে উঠে আসছে।
দুই পুলিশ আধিকারিকের মতবিরোধ শুধু একটি মামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তদন্তের নিয়ম, দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচারের সীমা নিয়েও তাঁদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়। ফলে ‘দায়রা’ শুধুমাত্র একটি অপরাধের গল্প নয়, বরং আইন এবং দায়িত্বের বিভিন্ন দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলতে চলেছে।
ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ কেশওয়ানি, সীমা আগরওয়াল এবং মেঘনা গুলজার। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জিতেন্দ্র যোশী, ক্ষিতি যোগ, কানওয়ালজিৎ সিংহ, সন্দীপ কুলকার্নি এবং তৃপ্তি খামকর। ছবিটি প্রযোজনা করেছে জঙ্গলী পিকচার্স এবং ডক্টর জয়ন্তীলাল গাডার পেন স্টুডিয়োজ। পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে পেন মরুধর। আগামী আঠারো সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘দায়রা’র।








