রাজ্যে নতুন সরকারের এক মাস পূর্তির মধ্যেই বড় রেল প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ভবিষ্যতে বুলেট ট্রেনের (Bullet Train) মাধ্যমে মাত্র ছয় ঘণ্টায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছনো সম্ভব হবে। এই ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গ জুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই উচ্চগতির রেলপথে (Bullet Train) দিল্লি, লখনউ, পাটনা হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চলবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হওয়ার কথা। সমীক্ষা শেষ হলে চূড়ান্ত রুট, প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা এবং নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। শিলিগুড়ি থেকে পাটনা এবং বারাণসী পৌঁছনোর সময়ও অনেক কমে যাবে। রেল সূত্রের দাবি, শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পৌঁছতে সময় লাগতে পারে তিন ঘণ্টারও কম।
প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে জাতীয় উচ্চগতির রেল সংস্থা। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা আকাশপথ ও স্থলপথে সমীক্ষা চালাবে। দুই হাজার সাতাশ সালের মার্চ মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এরপর রেল বোর্ডের অনুমোদনের জন্য তা পাঠানো হবে।
তবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন চালু হবে মুম্বই ও আমদাবাদের মধ্যে (Bullet Train)। প্রায় পাঁচশো আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরে ট্রেন ঘণ্টায় তিনশো কুড়ি কিলোমিটার গতিতে চলবে। অত্যাধুনিক জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রকল্পকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেলমন্ত্রীর ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও পর্যটন মহলে আশাবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মতে, বুলেট ট্রেন চালু হলে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে। একইসঙ্গে চা শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে (Bullet Train)।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিদের দাবি, দিল্লি থেকে মাত্র ছয় ঘণ্টায় শিলিগুড়ি পৌঁছনো গেলে ডুয়ার্স, পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বুলেট ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












