মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে আবারও মধ্যস্থতার ভূমিকায় নামতে চাইছে পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। দেশের ভিতরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে দিনে প্রায় চৌদ্দ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বহু এলাকায়। উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষোভে ফুঁসছে দেশের নাগরিকরা (Pakistan)।
সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে পাকিস্তানের (Pakistan) জ্বালানি সরবরাহে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের যোগান ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। জ্বালানি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এক সময় বিদ্যুতের ঘাটতি পৌঁছে যায় চার হাজার পাঁচশো মেগাওয়াটে, যা মোট চাহিদার প্রায় এক চতুর্থাংশ। শহরাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, টানা দীর্ঘ সময় অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে মানুষকে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প ক্ষেত্রেও (Pakistan)। শিল্পপতিরা জানিয়েছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রপ্তানিতে। অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধা তৈরি হওয়ায় জ্বালানি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও পাকিস্তান বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অনেকটাই নির্ভরশীল বিদেশি গ্যাসের উপর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বড় জ্বালানি প্রকল্পে হামলার কারণে সেই সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এতটাই বেশি যে তা দেশের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে দেশের ভিতরে গভীর সংকট—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে চাপে পড়েছে পাকিস্তান সরকার। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ।












