রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA Case) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন নির্দেশ এল। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিষয়ে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট নিয়ে যদি কোনও আপত্তি থাকে, তবে মামলার সঙ্গে যুক্ত পক্ষদের হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার (DA Case) শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ বাবদ প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সুপারিশ মেনে রাজ্য সরকার কাজ করছে।
রাজ্যের তরফে জানানো হয়, যেসব কর্মচারীর তথ্য তাদের কাছে রয়েছে, তাঁদের টাকা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে (DA Case)। বাকি কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিব্বল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করছে।
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে তারা নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারেননি। কমিটির রিপোর্টও তাদের জানানো হয়নি (DA Case)। এই কারণেই তারা আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন বলে জানান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, কর্মীদের মধ্যে বিভাজন করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে রাজ্যের জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কর্মীদের নিজেদের বক্তব্য জানাতে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষিতে আগেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে এবং বাকি অংশ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। প্রথম কিস্তি দেওয়ার সময়সীমা ছিল মার্চের শেষ দিন। তবে সেই সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় রাজ্য আরও সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। রাজ্যের দাবি, আর্থিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কারণে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে ডিএ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা থাকলেও, আদালতের নতুন নির্দেশে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এল।









