বিশ্বকাপ ফাইনালের (Fifa World Cup) আগে আর্জেন্টিনা শিবির থেকে সামনে এল বড় খবর। দলের তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো দিবু মার্টিনেজ জানিয়েছেন, ভাঙা আঙুলের যন্ত্রণা নিয়েই তিনি গোটা বিশ্বকাপ খেলছেন। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও দেশের হয়ে খেলার জন্য সেই সিদ্ধান্ত আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন হাতে অসহ্য ব্যথা হলেও দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার ইচ্ছাই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক।
ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি (Fifa World Cup) হয়ে দিবু বলেন, তাঁর হাতে এখনও প্রতিদিন ব্যথা হয়। একাধিক বিশেষজ্ঞ অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারেননি। তবে নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর আর চোট নিয়ে ভাবেননি। এখন আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন এবং ফাইনালে মাঠে নামতে প্রস্তুত।
কাতার বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে দুরন্ত সেভ এবং ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দিবু (Fifa World Cup)। এবারও তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলির একজন। পুরনো একটি প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় সতীর্থদের জানিয়েছিলেন দুটি বিশ্বকাপ জিতে অবসর নিতে চান। তবে এখন তাঁর সমস্ত মনোযোগ শুধুই ফাইনালে। তাঁর কথায়, প্রথমে জিততে হবে, তারপর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা যাবে। এই দল বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে আজকের জায়গায় পৌঁছেছে। দলের সাফল্যের কথা ভাবলে এখনও আবেগে চোখে জল এসে যায়।
দিবু আরও জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপ তিনি আগেরবারের থেকেও বেশি উপভোগ করছেন। শুরুতে হারের হতাশা থাকলেও পরে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মতে, এখন তাঁর নড়াচড়া আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে এবং ফাইনালে সমর্থকেরা তাঁকে হাসিমুখেই মাঠে দেখবেন (Fifa World Cup)।
সমালোচনা বা গোল হজম তাঁকে কখনও বিচলিত করে না বলেও জানিয়েছেন দিবু। তাঁর বিশ্বাস, একটি ম্যাচে ভুল হতেই পারে, কিন্তু পরের ম্যাচে তিনি আবার নিজের সেরাটা দিতে পারেন। গ্লাভস হাতে মাঠে নামলেই তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ স্পেনকে যথেষ্ট শক্তিশালী দল বলেই মনে করছেন আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক। তাঁর মতে, স্পেনের প্রতিটি ফুটবলারই উচ্চমানের। শুধু একজন নয়, পুরো দলই ভয়ঙ্কর শক্তিশালী। তবে আর্জেন্টিনারও নিজেদের সামর্থ্যের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। দিবুর আশা, এই ফাইনাল এমন একটি ম্যাচ হবে, যা ফুটবলপ্রেমীরা বহু বছর মনে রাখবেন।












