চিকেনস নেক (Chicken’s Neck) নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ির জুম্মাগছ সীমান্ত আউটপোস্ট পরিদর্শন করে তিনি জানিয়ে দেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে আরও দশটি নতুন সীমান্ত চৌকি গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন তিনি। এর মধ্যে দুটি থাকবে উত্তরবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সীমান্ত (Chicken’s Neck) পরিদর্শনের সময় অমিত শাহ বিএসএফের আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তিনি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারেও ওঠেন। মহানন্দা নদীপথের পরিস্থিতি দেখে আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং চোরাচালান বন্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে (Chicken’s Neck) জানানো হয়, নদীপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত তাপচিত্র শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তের যেসব অংশ এখনও পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়, সেখানে দ্রুত স্মার্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুম্মাগছ সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে পরিচিত। মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ অংশ উন্মুক্ত থাকায় বর্ষার সময়ে নদীপথ ব্যবহার করে অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থাকে বলে নিরাপত্তা মহলের ধারণা। সেই কারণেই এই এলাকা পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি (Chicken’s Neck)।
এদিন সীমান্ত সফরের পাশাপাশি প্রায় সাতাত্তর কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে উত্তরকন্যায় সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ, প্রশাসন, বিএসএফ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয় (Chicken’s Neck)।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শিলিগুড়ি করিডর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ। তাই এই করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা দেশের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।











