শনিবার ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জদের নাম প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। পুরভোটের আগে এই সাংগঠনিক রদবদলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার আগের দিনই রাজ্য কমিটিতে বড়সড় পরিবর্তন করা হয়েছিল। এক ব্যক্তি, এক পদ নীতির কথা মাথায় রেখে একাধিক মন্ত্রীকে দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়।
নতুন জেলা ইনচার্জদের তালিকায় একাধিক পরিচিত নেতার নাম রয়েছে। বনগাঁর দায়িত্ব পেয়েছেন অমিতাভ রায়। বসিরহাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবশ্রী চৌধুরীকে। উত্তর কলকাতায় দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস মিত্র। বারাকপুরে প্রবাল রাহা, মথুরাপুরে প্রসেনজিৎ ভৌমিক এবং শ্রীরামপুরে অনুপম মল্লিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন দীপাঞ্জন গুহ। হুগলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন নীলাঞ্জন অধিকারী। মালদহ বিভাগে কো-কনভেনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু সরকারকে। সম্প্রতি তাঁকে ওবিসি মোর্চার সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছিল।
এই রদবদলের পাশাপাশি বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষকেও (Sajal Ghosh) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে (Sajal Ghosh)দলের মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় সজল ঘোষের নতুন দায়িত্ব নিয়ে দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাজ্য কমিটিতেও একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছিল। এক ব্যক্তি, এক পদ নীতির ভিত্তিতে কয়েক জন মন্ত্রীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। তাঁদের মধ্যে অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং ইন্দ্রনীল খাঁর মতো নেতারাও রয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েক জন বিধায়ককে রাজ্য কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাতটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদেও পরিবর্তন করা হয়েছে। বনগাঁ, বারাসাত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান এবং কাটোয়া সেই তালিকায় রয়েছে।
বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সরকার গঠনের পর যাঁরা দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। সেই কারণে নতুন মুখকে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্বে আনা হচ্ছে। বিজেপির তরফে এটিকে ধারাবাহিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর মধ্যেই সামনে রয়েছে একাধিক নির্বাচন। পুরভোটের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের বিধানসভা উপনির্বাচনও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার দিকে বিজেপি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলির মধ্যেও সেই প্রস্তুতির ইঙ্গিত রয়েছে।
পুরভোটকে সামনে রেখে কলকাতা, হাওড়া-সহ বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় সংগঠন মজবুত করার কাজ চলছে। দলের বিভিন্ন স্তরে বৈঠক এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে প্রস্তুতি এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জেলা স্তরে নতুন ইনচার্জ নিয়োগও সেই সাংগঠনিক প্রস্তুতিরই অংশ বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এর মধ্যেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের বঙ্গ সফর ঘিরেও দলের অন্দরে প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক বৈঠকের কথা রয়েছে। তাঁর সফরের আগে রাজ্য এবং জেলা স্তরে পরপর রদবদল হওয়ায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে পুরভোট এবং আসন্ন উপনির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপি রাজ্য থেকে জেলা—দুই স্তরেই সংগঠন নতুন করে সাজাচ্ছে। সজল ঘোষের নতুন দায়িত্ব থেকে শুরু করে ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জ ঘোষণা—পরপর এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্য বিজেপির আগামী দিনের সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।












