কলকাতার দুই করসেবক রাম ও শরদ কোঠারির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শনিবার যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠান থেকে তিনি ৬ ডিসেম্বর, সনাতনী চেতনা, ছাত্রসমাজ এবং রাজ্যের জনবিন্যাস নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন।
১৯৯০ সালে অযোধ্যার রামমন্দির আন্দোলনে যোগ দিতে কলকাতা থেকে গিয়েছিলেন রাম ও শরদ কোঠারি। করসেবায় অংশ নেওয়ার পর ওই বছরই তাঁরা পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি করে আসছে।
কোঠারি ভাইদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari) বলেন, আগে ৬ ডিসেম্বরকে শৌর্য দিবস হিসেবে পালনের অনুমতি পাওয়া যেত না। তাঁর বক্তব্য, ইচ্ছা থাকলেও তখন তাঁর ‘হাত বাঁধা’ ছিল। এখন বাংলায় সাধুসন্তদের অপমান কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসে পরিবর্তন এসেছে এবং রাজ্যে আরও অনেক কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সুরক্ষার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রসমাজের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর (CM Suvendu Adhikari) বক্তব্যে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যুব সমাজের আন্দোলন এবং কলকাতার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, যুব প্রজন্মের মধ্যে সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী চেতনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্কুল ও মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম গাওয়ার বিষয়েও নিজের সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পুরো বন্দে মাতরম গাওয়ার নিয়ম করা হয়েছে।
গাছ লাগানো নিয়েও অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে ‘প্রতিযোগিতা’র কথা বলেন। শুভেন্দুর দাবি, উত্তরপ্রদেশে ২৬ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে, আর বাংলায় এখনও পর্যন্ত ১০ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে।
শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলির নিয়মিত পরিচর্যাও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পের আওতায় লাগানো গাছের যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছগুলিকে অন্তত তিন বছর পরিচর্যার মধ্যে রাখার কথাও বলেন তিনি।
রাম ও শরদ কোঠারির স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দুর বক্তব্যে তাই একসঙ্গে উঠে আসে অযোধ্যার রামমন্দির আন্দোলনের স্মৃতি, ৬ ডিসেম্বরের প্রসঙ্গ, সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী চেতনা, ছাত্রসমাজ, বন্দে মাতরম এবং গাছ লাগানোর মতো একাধিক বিষয়। তাঁর মন্তব্যগুলি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।












