নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেপাল সীমান্তে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের তৎপরতা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের নজরদারি বাড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ২২ অগস্ট শিলিগুড়িতে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah)। তাঁর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ওই দিন কাওয়াখালিতে একটি সচেতনতা শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit shah)। পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই নেপালকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে আইএসআই। ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘ খোলা সীমান্ত এবং সীমান্ত এলাকায় তুলনামূলক সহজ যাতায়াতের সুযোগকে কাজে লাগানোর অভিযোগ রয়েছে ওই পাক গুপ্তচর সংস্থার বিরুদ্ধে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মনে করছে, নেপালকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপের চেষ্টা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি (Amit shah)।
গত এক দশকে ভারত ও নেপালের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা বেড়েছে। বিভিন্ন অভিযানে আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন কাঠামো ভেঙে দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, নেপালে আইএসআইয়ের কিছু নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় থাকতে পারে। সেই কারণেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে চিনের প্রভাব ও নজরদারি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি। ভারতের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ এবং গালওয়ান ও ডোকলাম-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে দিল্লি (Amit shah)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত প্রকল্পে চিনের সহযোগিতা নিয়েও নজর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একাংশের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে উত্তর-পূর্ব ভারতের উপর কৌশলগত চাপ বাড়ানোর চেষ্টা হলে শিলিগুড়ি করিডর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। তবে এই আশঙ্কাগুলি এখনও গোয়েন্দা মূল্যায়নের অংশ এবং কোনও নির্দিষ্ট হামলার পূর্বাভাস নয়।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি রাখতে চাইছে না কেন্দ্র। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বও অনেক বেশি।
এর আগে জুলাই মাসেও শিলিগুড়িতে গিয়ে উত্তরকন্যায় সেনাবাহিনী, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন অমিত শাহ। এবার ২২ অগস্টের সম্ভাব্য সফর ঘিরে ফের নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।










