Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • রাজ্য
  • ‘কলকাতায় ফিরতে ১৯ বছর লেগে গেল’! আবেগঘন ভাষণে অতীতের ক্ষত উসকে দিলেন তসলিমা
রাজ্য

‘কলকাতায় ফিরতে ১৯ বছর লেগে গেল’! আবেগঘন ভাষণে অতীতের ক্ষত উসকে দিলেন তসলিমা

taslima nasrin kolkata
Email :6

প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে আবেগে ভাসলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। রবীন্দ্রসদনে তাঁর ‘আত্মজীবনী সমগ্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন, তেমনই উঠে এল দীর্ঘ নির্বাসনের যন্ত্রণা, বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন এবং নিজের শহরে ফিরতে না পারার আক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে তসলিমা (Taslima Nasrin) বলেন, কলকাতায় ফিরে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি (Taslima Nasrin) স্পষ্ট করেন, কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে নয়, তিনি এসেছেন বাকস্বাধীনতা, মানবিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে নিজের অবস্থান জানাতে।

আবেগঘন কণ্ঠে তসলিমা বলেন, কলকাতায় ফিরেছেন—এই কথাটি বলতে তাঁর প্রায় দুই দশক সময় লেগে গেল (Taslima Nasrin)। একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে ফিরতে পুলিশের নিরাপত্তার প্রয়োজন হওয়াকে তিনি বেদনাদায়ক বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ভয় কিংবা নিষেধাজ্ঞা কখনও স্থায়ী হয় না। বন্ধ দরজাও একদিন খুলে যায়। তাই অগস্ট মাসকে তিনি নিজের জীবনে নতুন অর্থে ‘প্রত্যাবর্তনের মাস’ বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন লেখিকা। তিনি বলেন, রাষ্ট্র তাঁকে দেশ থেকে দূরে সরিয়ে দিলেও তাঁর মন থেকে বাংলাদেশকে মুছে দিতে পারেনি। তাঁর বিশ্বাস, ভাষা ও সংস্কৃতির কোনও সীমান্ত নেই। কাঁটাতার ভূখণ্ডকে ভাগ করতে পারে, কিন্তু ভাষা কিংবা মানুষের অনুভূতিকে ভাগ করতে পারে না।

নিজের নির্বাসনের প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কী অপরাধে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। তিনি বলেন, কাউকে হত্যা করেননি, কোনও অপরাধও করেননি। তবুও তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই নির্বাসন শুধু একজন লেখকের ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নও।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মানুষের মর্যাদা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। ধর্মের থেকেও মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই সমান নাগরিক অধিকারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কলকাতায় ফিরে তিনি বলেন, তাঁকে একসময় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই হারানো সময় আর কোনওদিন ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে এত বছর পর কলকাতায় ফিরে আসা তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত আনন্দ নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী জয়। ইতিহাস একদিন মনে রাখবে, কারা দরজা বন্ধ করেছিল এবং কারা সেই দরজা আবার খুলে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তসলিমা।

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে নব্বইয়ের দশকে তসলিমা নাসরিনকে দেশ ছাড়তে হয়। পরে দীর্ঘ সময় তিনি ভারতের বিভিন্ন শহর ও বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটান। একসময় কলকাতাতেও তাঁর বসবাস ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তাঁকে শহর ছাড়তে হয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবার কলকাতার মঞ্চে ফিরে তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts