মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিতর্কে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) অস্বস্তি আরও বাড়ল। মামলার তদন্তে তাঁকে ফের তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী আট জুলাই সকাল এগারোটার মধ্যে থানায় হাজির থাকার নির্দেশ দিয়ে নতুন নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার নোটিস পেলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশ মেনে আঠারো জুন প্রথমবার থানায় হাজির হন। এরপর বাইশ জুনও তদন্তে সহযোগিতা করতে থানায় গিয়েছিলেন তিনি (Aroop Biswas)।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, আর্থিক প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) থানায় ডাকা হলেও তিনি প্রথম দিকে হাজির হননি। পরে বিষয়টি কলকাতা উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুলিশের ডাকা নির্ধারিত দিনে তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, হাজিরার অন্তত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে এবং তদন্তে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। সেই নির্দেশের পরই তিনি থানায় উপস্থিত হন।
তবে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সতেরো অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। কিন্তু সেই সুরক্ষা তদন্তে কোনও বাধা নয় বলেই স্পষ্ট করেছে আদালত। তাই তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে (Aroop Biswas)।
এদিকে থানায় হাজিরা দেওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যেতে দেখা যায়। পরে নতুন কমিটিতে তাঁকে সহ-সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তাঁকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।












