বাংলায় রাজনৈতিক সাফল্যের পর এবার দক্ষিণ ভারতে শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। আগামী বছর তেলেঙ্গানায় (Telangana) বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে হায়দরাবাদ পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তিন দিনের সফরে হায়দরাবাদে পৌঁছেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচনই আগামী বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মঞ্চ (Telangana)।
সফরকালে নীতীন নবীন ছাত্র, আদিবাসী প্রতিনিধি এবং বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন (Telangana)। পাশাপাশি সাংসদ, জেলা নেতৃত্ব এবং রাজ্যস্তরের পদাধিকারীদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করেন। রাজ্যের একাধিক জেলায় নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করে তিনি সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেন। দলীয় নেতৃত্বকে হায়দরাবাদ পুরসভা নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দেন।
তেলেঙ্গানার (Telangana) রাজনীতিতে হায়দরাবাদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই একটি পুরসভার অধীনেই রয়েছে বহু বিধানসভা এবং একাধিক লোকসভা কেন্দ্র। তাই এই নির্বাচনের ফল আগামী বিধানসভা ভোটের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আগের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। কয়েকটি আসন থেকে এক লাফে অনেক বেশি কাউন্সিলর জিতে রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে দল (Telangana)। যদিও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি। তবে লোকসভা নির্বাচনে আবারও শক্তি বাড়ায় বিজেপি। সেই ফলকে সামনে রেখেই এবার পুরভোটে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
সফরে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন নীতীন নবীন। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি এবং একাধিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে কংগ্রেসের নাম জড়িয়ে রয়েছে। মানুষের আস্থা হারিয়েছে বর্তমান সরকার বলেও দাবি করেন তিনি (Telangana)।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর এবং পূর্ব ভারতে সংগঠন শক্তিশালী করার পর এখন দক্ষিণ ভারতে নিজেদের ভিত্তি আরও মজবুত করতে চাইছে বিজেপি। তামিলনাড়ু ও কেরালায় প্রত্যাশিত ফল না মিললেও তেলেঙ্গানাকে তুলনামূলকভাবে সম্ভাবনাময় রাজ্য হিসেবে দেখছে দল। তাই হায়দরাবাদ পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিধানসভা ভোটের রণকৌশল তৈরি শুরু করেছে বিজেপি। এই নির্বাচনের ফলই আগামী বছরের বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিশা অনেকটাই স্পষ্ট করে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।













