রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে পরিবারের সকলে ঘুমোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আচমকাই ফোন আসে কলকাতা থেকে। ফোনের ওপার থেকে আসা খবর শুনে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা পরিবার (Nurse Death)। তাঁদের আদরের একমাত্র মেয়ে আর নেই। মাত্র ১০ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। এর মধ্যেই কী এমন ঘটল, তা ভেবেই দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা (Nurse Death)।
বুধবার রাতে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (Nurse Death) বাথরুম থেকে ওই নার্সের দেহ উদ্ধার হয়। তিনি তখন হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন। ডিউটির মধ্যে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মৃতা v ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের সাউথখন্ড গ্রামের বাসিন্দা। কৃষক পরিবারের একমাত্র মেয়ে ছিলেন তিনি। দুই ভাইয়ের একমাত্র বোনের এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। স্নাতকোত্তর পাশ করার পর নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউয়ে নার্স হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, খুব শান্ত স্বভাবের ছিলেন ওই নার্স। তাঁর এক বৌদি জানান, তিনি সাধারণত খুব শান্ত থাকতেন এবং সামান্য বিষয়েও হঠাৎ রেগে যেতেন না (Nurse Death)।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাঁর বিয়ে হয়। বিবাহের আগে পাত্র-পাত্রীর পরিচয় হয়েছিল একটি বিবাহের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। একে অপরকে পছন্দ করার পর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে দমদমে থাকতেন ওই নার্স। তাঁর শ্বশুরবাড়ি দিল্লিতে। স্বামী দিল্লি ও কলকাতা, দুই জায়গাতেই থাকতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
মৃতার মেজো বৌদি জানান, রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কলকাতা থেকে প্রথম ফোনটি আসে। ফোন করেছিলেন নার্সের স্বামী। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী আর নেই এবং দ্রুত কলকাতায় যেতে বলেন। পরিবারকে জানানো হয়, বিষয়টি পুলিশের আওতায় চলে গিয়েছে।
হঠাৎ এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই মুহূর্তে তাঁরা আর বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ফোন আসে। এবার ফোন করেন মৃতার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবী। তিনিও মৃত্যুর খবর জানান।
এর প্রায় আধ ঘণ্টা পর আরও একটি ফোন আসে। নার্সের কয়েক জন সহকর্মী পরিবারকে ফোন করে জানতে চান, তাঁরা কোনও খবর পেয়েছেন কি না। অল্প সময়ের মধ্যে পরপর ফোন আসায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় (Nurse Death)।
হাসপাতালের বাথরুম থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
পরিবারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ঘটনার সঠিক তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রকৃত কারণ সামনে আসুক এবং তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান।
মাত্র ১০ মাসের দাম্পত্যের পর একমাত্র মেয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না পরিবার। হাসপাতালের ডিউটির মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।






