রাম মন্দিরের অনুদান চুরি মামলাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অযোধ্যা (Ayodhya) বার অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার সংগঠনের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কোনও আইনজীবী যদি এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তদের হয়ে মামলা লড়েন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাম মন্দিরের অনুদান কাণ্ড আরও বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের রূপ নিয়েছে।
অযোধ্যা (Ayodhya) বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালিকা প্রসাদ মিশ্র জানান, রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রায়, ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তের দাবিও জানানো হবে। প্রয়োজনে আইনজীবী সংগঠন নিজেদের খরচে উচ্চ আদালত ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সহ-সভাপতি রাজেশ কুমার উপাধ্যায়ের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা মূল অভিযুক্ত নন। তাঁর দাবি, ধৃতদের অধিকাংশই চালক বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী (Ayodhya)। প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে প্রকৃত দোষীদের সামনে আনতেই হবে।
আইনজীবী সংগঠন জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। ওই ধারায় বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনে পুলিশকে মামলা নথিভুক্ত ও তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন (Ayodhya)।
এতেই শেষ নয়। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, চম্পত রায়, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওকে অবিলম্বে অযোধ্যা ছাড়তে হবে। তাদের জন্য তিন দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা শহর না ছাড়লে রাম জন্মভূমি এলাকায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন।
তদন্তে উঠে এসেছে, রাম মন্দিরে নগদ অনুদান হিসেবে কয়েক হাজার কোটি টাকা জমা পড়েছিল। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও মূল্যবান সামগ্রীও দান করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশের কোনও স্পষ্ট হিসাব মিলছে না। শুধু নগদ অর্থ নয়, দানে পাওয়া মূল্যবান সামগ্রীও নিখোঁজ বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, মন্দির ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষ কর্তাও অনুদান সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। তা সত্ত্বেও কেন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনও দাবি করা হয়েছে, অনুদানের অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বদল করার প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা হয়নি।
এই ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও সরব হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লার দাবি, এখনও পর্যন্ত যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা প্রকৃত অপরাধী নন। তাঁর অভিযোগ, এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে বড় মাথাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকেও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।











