জোড়া ভূমিকম্পের ভয়াবহ ধাক্কায় কার্যত বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা (Venezuela Earthquake)। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪। আহত প্রায় এক হাজার। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ। অন্যদিকে মার্কিন বিজ্ঞানীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা এক লক্ষও ছাড়িয়ে যেতে পারে (Venezuela Earthquake)।
ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায় (Venezuela Earthquake)। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। তার মাত্র ৪০ সেকেন্ড পরেই একই এলাকায় আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ভূপৃষ্ঠের খুব কম গভীরে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই জোড়া ভূমিকম্পের পরই গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে (Venezuela Earthquake)। উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খোঁজ চালাচ্ছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ফলে উদ্ধারকাজে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভেনেজুয়েলার (Venezuela Earthquake) সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে অন্যতম। রাজধানী কারাকাস-সহ একাধিক শহরে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বাড়িঘর। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের সময় উঁচু ভবনগুলি ভয়ঙ্করভাবে দুলছে। আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় নেমে আসছেন। অনেক এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে (Venezuela Earthquake)।
ভেনেজুয়েলার চারপাশে একাধিক ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল থাকলেও এত শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প অত্যন্ত বিরল। সেই কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, উদ্ধারকাজ এগোলে মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।








