দিল্লির মদ কেলেঙ্কারির পর এবার বাংলায় মদ ব্যবসা ঘিরে উঠল বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। আবগারি নীতির পরিবর্তনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের আড়ালে অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গঠন করা হয়। নতুন নীতির ফলে আগে যেখানে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হত, সেখানে পরে ডিস্ট্রিবিউটর এবং পাইকারি বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই রাজস্ব সংগ্রহ শুরু হয়।
মদ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাংশের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত রাজস্বের একটি বড় অংশ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে পৌঁছত। অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নামও উঠে এসেছে। পাশাপাশি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হত। এমনকি মদের প্রতিটি বোতলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হত বলেও অভিযোগ।
সরকার পরিবর্তনের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত মে মাসে রাজ্যের আবগারি কমিশনারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই ধরনের অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছে। সংস্থার দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা আশা করছে এই ধরনের কার্যকলাপের অবসান ঘটবে।
সূত্রের খবর, এই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন, এই ঘটনা বাংলার দুর্নীতির সংস্কৃতির আরও একটি উদাহরণ (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এই দুর্নীতি চালানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। সত্য সামনে আসুক, সেটাই চায় সরকার।
এই ঘটনায় নতুন করে রাজ্যের আবগারি ব্যবস্থা, মদ ব্যবসা এবং রাজস্ব সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।












