তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে (TMC Leaders)। দলের ভিতরে অস্বস্তির আবহের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে একাধিক বিধায়কের বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্রের দাবি, সোমবার রাতে কলকাতার এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের বৈঠক হয় (TMC Leaders)। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাভেদ খান, শিউলি সাহা-সহ আরও কয়েকজন বিধায়ক। বৈঠকে মোট পনেরো থেকে ষোলো জন বিধায়ক ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি (TMC Leaders)।
এদিন এমএলএ হস্টেল থেকে বেরিয়ে শিউলি সাহা বলেন, তিনি নিজের ঘর দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দেখে কিছুক্ষণ বসে চা খেয়ে বেরিয়ে আসেন (TMC Leaders)। তবে তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “ওঁরা বিধায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত নন, দল থেকে বহিষ্কৃত।” এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বহিষ্কারের পর থেকেই কয়েকজন অসন্তুষ্ট বিধায়ক নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে (TMC Leaders)। সেই চিঠিতে বিধায়ক হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও উল্লেখ থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।
এদিকে সই জালিয়াতি বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে চাপ আরও বেড়েছে। সেই ঘটনার জেরে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। বহিষ্কারের পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলছেন ঋতব্রত (TMC Leaders)। তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের দাবিতে সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন।
অন্যদিকে দলীয় বৈঠকে বহু বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক হাজির না হওয়ায় সংগঠনের ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যেই বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকের খবর সামনে আসায় জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহিষ্কৃত বিধায়কদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অসন্তুষ্ট বিধায়কদের অবস্থান স্পষ্ট হলে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।











