মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট শুক্রবার বহুদিনের বিতর্কিত ভোজশালা এবং কমাল মৌলা মসজিদ চত্বর নিয়ে বড় রায় দিল। আদালত জানিয়েছে, এই জায়গাটি মূলত দেবী বাগদেবী বা সরস্বতীর মন্দির ছিল (Bhojshala)। রাজা ভোজের আমলে এটি সংস্কৃত শিক্ষা এবং হিন্দু দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল বলেও আদালত উল্লেখ করেছে (Bhojshala)।
দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটি নিয়ে হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল (Bhojshala)। প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের নথিতে জায়গাটির নাম ছিল ভোজশালা এবং কমাল মৌলা মসজিদ। স্বাধীনতার পর থেকেই এই স্থান নিয়ে বিরোধ আরও বাড়ে (Bhojshala)। এবার আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্ট, শিলালিপি, সাহিত্যিক তথ্য এবং খননে পাওয়া নানা প্রমাণের ভিত্তিতে জানিয়ে দিয়েছে, এই স্থানের মূল পরিচয় একটি হিন্দু মন্দির।
দুই হাজার পাতারও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান কাঠামোর ভিতরে একাদশ শতকের পরমার যুগের একটি বিশাল স্থাপনার চিহ্ন রয়েছে (Bhojshala)। তদন্তে বহু হিন্দু দেবদেবীর ভাঙা মূর্তি, স্তম্ভ, খোদাই করা পাথর এবং সংস্কৃত শিলালিপি উদ্ধার হয়েছে। গণেশ, ব্রহ্মা, নরসিংহ, হনুমান, কৃষ্ণ এবং সরস্বতীর মূর্তির অংশও মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জৈন ধর্মের কিছু প্রতীকও পাওয়া যায় (Bhojshala)।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, পরবর্তী সময়ে পুরনো মন্দিরের অংশ ব্যবহার করেই মসজিদের কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। আদালতে জমা পড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমান স্থাপত্যে পুরনো পাথর এবং ভাঙা মন্দিরের অংশ পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
আদালত ঐতিহাসিক সাহিত্য এবং পুরনো নথিরও উল্লেখ করেছে। চতুর্দশ শতকের জৈন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, রাজা ভোজ সরস্বতী দেবীর পূজার জন্য এই মন্দির তৈরি করেছিলেন। সেখানে বহু পণ্ডিত সংস্কৃত শিক্ষা দিতেন। পরে ব্রিটিশ আমলেও বহু গবেষক এই স্থানে হিন্দু মন্দিরের চিহ্ন থাকার কথা লিখেছিলেন।
অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ আদালতে দাবি করেছিল, বহু শতাব্দী ধরে এখানে নামাজ পড়া হচ্ছে এবং সরকারি নথিতেও এটি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তারা উনিশশো পঁয়ত্রিশ সালের একটি সরকারি নির্দেশের কথাও তুলে ধরে। তবে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্ট এবং ঐতিহাসিক তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
হাই কোর্টের এই রায়ের পর ভোজশালায় হিন্দুদের পূজার অধিকার স্বীকৃতি পেল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই স্থানের মূল চরিত্র একটি সরস্বতী মন্দিরের। এই রায় ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মেটা বিবরণ: মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ভোজশালা কমাল মৌলা চত্বরকে সরস্বতী মন্দির বলে ঘোষণা। প্রত্নতাত্ত্বিক রিপোর্ট, মূর্তি ও শিলালিপির ভিত্তিতে বড় সিদ্ধান্ত আদালতের।







