পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে (Mali)। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৮০-এরও বেশি হতে পারে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল কায়দার শাখা সংগঠন জামাত নুসরত অল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন বা জেএনআইএম (Mali)।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাস থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মালি। একের পর এক গ্রামে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। গত বুধবার কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়। তারপর শুক্রবার আরও কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ হামলা হয়। একাধিক গ্রামবাসীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ (Mali)।
মালির (Mali) নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, যেসব গ্রাম জঙ্গিদের সমর্থনে চুক্তি করতে রাজি হয়নি, সেগুলোকেই নিশানা করা হচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় পালাতে শুরু করেছেন বহু পরিবার।
এই হামলার পর দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় সেনা শিবির খুব কাছেই থাকলেও কোনও সাহায্য মেলেনি। এক যুবক বলেন, বারবার সাহায্য চাওয়া হলেও সেনার তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে অসহায় অবস্থায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন (Mali)।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে রাজধানী বামাকোর কাছেও। রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি বড় কারাগারে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র জঙ্গিরা। ওই জেলে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭২ জনকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে সরকার।
এর মধ্যেই জেএনআইএম নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জঙ্গি সংগঠনের দাবি, রাজধানী বামাকোর দিকে যাওয়ার সব রাস্তা তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। বিভিন্ন জায়গায় চেকপয়েন্ট বসানোর কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ রাজধানীকে কার্যত ঘিরে ফেলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা।
গত এপ্রিলেই বড় এক হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার মৃত্যু হয়েছিল। অন্যদিকে মালির প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার সেনাবাহিনীও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালিতে জঙ্গি সংগঠনগুলির শক্তি দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে। আফ্রিকার এই দেশে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।












