চার রাজ্য এবং পুদুচেরির নির্বাচনের ফল ঘোষণার ছয় দিন কেটে গেলেও কেরলে এখনও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি কংগ্রেস (Kerala)। অন্য রাজ্যগুলিতে মুখ্যমন্ত্রীদের শপথপর্ব প্রায় শেষ হলেও ‘ঈশ্বরের দেশ’ কেরলে কে পিনারাই বিজয়নের উত্তরসূরি হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। নতুন বিধানসভা গঠনের শেষ সময় ২৩ মে। তার আগেই কংগ্রেসকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু দলের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ।
কেরল (Kerala) কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী দীপা দাশমুন্সি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করবে দলীয় নেতৃত্ব। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা সবাই মেনে নেবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল। কেরলের একাধিক কংগ্রেস নেতা দিল্লিতে গিয়ে বারবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন। অন্যদিকে তাঁদের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে পোস্টার, বিক্ষোভ এবং প্রচার চালাচ্ছেন নিজেদের পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর সমর্থনে।
দলের ভিতরে এই সংঘাত এতটাই বেড়েছে যে রাহুল গান্ধী নিজে নাকি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের সমর্থকদের শান্ত থাকতে বলেছেন। ভি ডি সতীশন, কে সি ভেনুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালার সমর্থকদের মধ্যে টানাপোড়েন বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর (Kerala)।
সবচেয়ে বেশি চর্চায় এখন কে সি ভেনুগোপালের নাম। তিনি বর্তমানে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং আলাপ্পুঝার সাংসদ। বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রায় ৪৩ জন কংগ্রেস বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাঁর পাশে। রাহুল গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ভেনুগোপাল।
তবে ভি ডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালার দাবিও যথেষ্ট শক্তিশালী। সতীশন ছিলেন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ প্রকাশ্যে তাঁর সমর্থনে কথা বলেছে। অন্যদিকে চেন্নিথালার অনুগামীরা দাবি করছেন, আগের কংগ্রেস সরকারে ওমেন চান্ডির জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। এবার তাই তাঁকেই সুযোগ দেওয়া উচিত।
সতীশনের সমর্থকেরা বলছেন, বাম সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন করে এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েই তিনি কংগ্রেসকে ক্ষমতায় ফেরানোর ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর দাবিই সবচেয়ে জোরালো।
এদিকে নির্বাচনের আগে কন্নুরের সাংসদ কে সুধাকরণও বিধানসভা ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনির অনুরোধে তিনি ভোটে দাঁড়াননি বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেস আগেই জানিয়েছিল, কোনও সাংসদ বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন না। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটে না লড়লেও কোনও সাংসদকে কি মুখ্যমন্ত্রী করা হবে?
কেরলের ১৪০ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেস পেয়েছে ৬৩টি আসন। জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ ২২টি, কেরল কংগ্রেস ৮টি এবং রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি ৩টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে জোট। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে কংগ্রেস।












