বাংলাদেশে হাম রোগের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে চলেছে এবং ইতিমধ্যেই আড়াইশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছোট শিশু (Bangladesh)। এই পরিস্থিতি শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
World Health Organization সতর্ক করে জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খোলা সীমান্ত এবং মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এই সংক্রমণ ভারতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে (Bangladesh)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে (Bangladesh) এই পরিস্থিতির মূল কারণ হল গত কয়েক বছরে টিকাকরণ কর্মসূচিতে ভাটা পড়া। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক সমস্যার জন্য টিকাকরণ ঠিকমতো হয়নি। এর ফলে অনেক মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। ২০২৫ সালে টিকাকরণের হার আরও কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে, তবে দেশের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। এখানে নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকাকরণ কর্মসূচি চালু রয়েছে, ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই শক্তিশালী। সারা দেশে বড় আকারে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা কম হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু সংক্রমণ দেখা যেতে পারে।
ভারতে সরকারের টিকাকরণ কর্মসূচি খুব বিস্তৃত। এই কারণেই দেশে বড় ধরনের মহামারীর আশঙ্কা কম। তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নজরদারি বাড়ানোর এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি রাজ্যগুলিতে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, টিকাকরণ কর্মসূচির ফলে ভারতে বহু শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত হাম রোগে বহু শিশুর মৃত্যু হলেও পরে টিকাকরণ বাড়ানোর ফলে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা আবারও জোর দিয়ে বলছেন, নিয়মিত টিকাকরণই এই রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়।












