হাওড়ার (Howrah) উদয়নরায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এই ঘটনার মাঝেই নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাজমাধ্যমে করা অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওটি বুথের ভিতরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ (Howrah)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওই বৃদ্ধ তাঁর পুত্রের সঙ্গে ভোট দিতে বুথে ঢুকছেন। হাতে কালি লাগানোর পর তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে একাই ইভিএমের দিকে এগিয়ে যান। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁর অসুবিধা হচ্ছে বুঝে পুত্রও তাঁর কাছে যান। কীভাবে ভোট দিতে হবে, তা দেখিয়ে আবার সরে দাঁড়ান। এরপর হঠাৎই ইভিএমের সামনে পড়ে যান ওই বৃদ্ধ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পুত্র ও উপস্থিত কর্মীরা তাঁকে ধরে বাইরে নিয়ে যান।
নির্বাচন কর্তৃপক্ষ একটি লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাওড়ার ওই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি বা কাউকে ধাক্কা দেননি। তাঁদের বক্তব্য, ওই বৃদ্ধ শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বয়সজনিত অসুস্থতা এবং গরমের প্রভাবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Howrah)।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বুথে বৃদ্ধকে সাহায্য করার জন্য তাঁর পুত্রকে ইভিএমের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ভোট দেওয়ার পরই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় বাহিনী শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ভিত্তিহীন অভিযোগ না করারও আবেদন জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, একজন বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনীতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এতে পরিবারের কষ্ট আরও বাড়ে।
এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই বৃদ্ধ ও তাঁর পুত্রের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে এবং ধাক্কা দিয়েছে, যার ফলে তিনি পড়ে যান। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার তুলনাও টানেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ভিডিও ও বিবৃতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।












