আন্দামান সাগরে (Andaman Sea) ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে শিশুদেরও থাকার খবর মিলেছে। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নৌকাটি বাংলাদেশের টেকনাফ এলাকা থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল (Andaman Sea)। পথে ঝড়ো হাওয়া, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে নৌকাটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। নৌকায় প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
টেকনাফ এলাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথ (Andaman Sea)। প্রতিবছর বহু রোহিঙ্গা উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও নির্যাতনের কারণে তাঁরা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা বিশাল শরণার্থী শিবির থেকেও বহু মানুষ এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেন। সেখানে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অত্যন্ত কষ্টকর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন (Andaman Sea)।
এই নৌকাডুবির সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও জানা গিয়েছে, ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল নৌকাটি। রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তুচ্যুতি এবং স্থায়ী সমাধানের অভাবেরই ফল।
এই ঘটনার মধ্যেই একটি উদ্ধার অভিযানের খবরও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের একটি জাহাজ আন্দামান সাগরের গভীর জলে কয়েকজনকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে। মোট ৯ জন বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, তাঁরা ড্রাম এবং কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে সমুদ্রে ভাসছিলেন। পরে জাহাজের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব পাচার চক্রের সাহায্যে এই ধরনের সমুদ্রযাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছোট নৌকায় যাত্রা করার ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও মিয়ানমার উপকূলে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ৪০০-র বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল। ফলে আন্দামান সাগর ক্রমশ শরণার্থীদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।












