কয়েকদিন আগেই একটু স্বস্তি মিলেছিল। কিন্তু আবার নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়ছে (LPG Crisis)। সামনে কি জ্বালানি সঙ্কট আসছে? এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাবে তো? বিদ্যুতের জোগান ঠিক থাকবে তো? নাকি অন্ধকারেই কাটাতে হবে দিন? এই প্রশ্নই এখন অনেকের মনে ঘুরছে। এর মূল কারণ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত।
দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি (LPG Crisis)। বরং আরও জটিল হয়েছে। এতদিন ইরান হরমুজ প্রণালী খুলতে চাইছিল না। এবার তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলিতে জাহাজের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। জানানো হয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় ঢোকা বা বেরোনো সমস্ত জাহাজই আটকানো হতে পারে, সে যে দেশেরই হোক (LPG Crisis)।
তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্য দেশ থেকে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু ওই অঞ্চলে ঢোকার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে (LPG Crisis)। এই পরিস্থিতিতে ভারতের উপর চাপ অনেকটাই বাড়তে পারে।
ভারতের জ্বালানির বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা অনেক বেশি। এই তেলের বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই পথ বাধাগ্রস্ত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে (LPG Crisis)।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। তাই এখানে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, গোটা বিশ্বেই তেলের দাম বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে যদি সরবরাহ কমে যায়, তাহলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে। তেলের পরিবহন খরচ বাড়বে, যার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের খরচ বেড়ে যাবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।
এই পথ শুধু তেল নয়, গ্যাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বাণিজ্যেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পথ ব্যবহার করা খুব সহজ নয়। পাইপলাইন বা অন্য সমুদ্রপথ ব্যবহার করা সম্ভব হলেও তা অনেক বেশি খরচসাপেক্ষ এবং সময়সাপেক্ষ। ফলে বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
যদি আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে ইরান থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল বাজারে কমে যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে। ইতিমধ্যেই তার ইঙ্গিত মিলছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ভারতের মতো দেশ, যারা আমদানির উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
এছাড়াও এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ এই জ্বালানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। সরবরাহে বাধা তৈরি হলে রান্নার গ্যাস পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।
শিল্পক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়বে। কেমিক্যাল, সার এবং উৎপাদন শিল্পের মতো অনেক ক্ষেত্রই তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, ফলে ব্যবসায় চাপ বাড়বে।
সব মিলিয়ে, ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাত শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয় নয়, এর প্রভাব খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনে পড়তে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এর ফল আমরা দেখতে পেতে পারি।











