গত কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এক চাঞ্চল্যকর দাবি। বলা হচ্ছে, ‘শম্পা’ (Cyclone Shampa) নামে একটি ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসছে কলকাতার দিকে এবং নির্দিষ্ট দিনে তা শহরকে তছনছ করে দিতে পারে। নানা ছবি, ভিডিও এবং সাইরেনের শব্দ দিয়ে তৈরি এই ধরনের পোস্ট দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন (Cyclone Shampa)।
তবে আবহাওয়া দফতর বা কোনও সরকারি সংস্থা এই ধরনের কোনও ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Shampa) কথা জানায়নি। কারণ, বাস্তবে ‘শম্পা’ নামে কোনও ঘূর্ণিঝড়ের অস্তিত্বই নেই। আবহাওয়াবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর, যা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার নাম আগে থেকেই নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী ঠিক করা হয়। অতীতে আমরা যে ঝড়গুলির নাম শুনেছি, সেগুলিও সেই তালিকা থেকেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকায় ‘শম্পা’ নামে কোনও নাম নেই (Cyclone Shampa)।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যে বৃষ্টি এবং ঝড় দেখা যাচ্ছে, তা ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নয় (Cyclone Shampa)। এটি কালবৈশাখীর প্রভাব। এই সময় অর্থাৎ মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বাংলায় এই ধরনের ঝড় হওয়া খুবই স্বাভাবিক। দুপুর বা বিকেলের দিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া—এই সবই কালবৈশাখীর বৈশিষ্ট্য।
ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে কয়েক দিন ধরে সমুদ্রে তৈরি হয়ে পরে উপকূলে আছড়ে পড়ে (Cyclone Shampa)। কিন্তু কালবৈশাখী হঠাৎ করে তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তাই এই দুই ধরনের আবহাওয়াকে এক করা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি দাবি ছড়িয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে ভারত, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান জুড়ে একটি অস্বাভাবিক বৃষ্টির রেখা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই দাবিও ভুল বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা প্রতি বছরই ঘটে এবং এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হয়।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়ো খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উপর ভরসা করাই উচিত।











