মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এবার ভারত মহাসাগরেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (Middle East Crisis)। ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহত চুরাশি জন নাবিকের দেহ তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার একটি আদালত সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় (Middle East Crisis)। ওই জাহাজে প্রায় একশো আশি জন নাবিক ছিলেন। ঘটনার পর শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী বত্রিশ জন নাবিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে আরও প্রায় ষাট জন নাবিকের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাবিকদের দেহ ধাপে ধাপে শ্রীলঙ্কা থেকে ইরানে পাঠানো হবে। একটি বিশেষ উড়ান ভাড়া করে ইরান তাদের দেশে দেহগুলি নিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ছেচল্লিশটি দেহ একটি বিশেষ মালবাহী উড়ানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই উড়ানটি দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়েছে (Middle East Crisis)।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কা এই সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ইরানের একাধিক যুদ্ধজাহাজ যুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করে তাদের বন্দরে ঢোকার অনুমতি চাইলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর অন্য একটি ইরানি জাহাজ শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালি বন্দরে আশ্রয় পায়। জাহাজটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সাহায্য চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই জাহাজের প্রায় দুইশো আটজন নাবিককে নামিয়ে শ্রীলঙ্কা অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতিও দিয়েছে (Middle East Crisis)।
অন্য একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ বিপদের সংকেত পাঠানোর পর সেটিকে আশ্রয় দেয় ভারত। বর্তমানে সেই জাহাজটি কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে। জাহাজের প্রায় একশো তিরাশি জন নাবিককে কাছাকাছি নৌ ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।













