পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ কবে থামবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে (Middle East Crisis)। ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামানো নিয়ে নতুন বার্তা দিল তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট তিনটি শর্ত মানা হলে তবেই সংঘর্ষবিরতির বিষয়ে আলোচনা সম্ভব (Middle East Crisis)।
বুধবার রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দেন (Middle East Crisis)। সেখানে তিনি জানান, যুদ্ধ থামাতে হলে আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানের কয়েকটি দাবি মেনে নিতে হবে। তিনি লেখেন, রাশিয়া এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্তির পক্ষে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন।
ইরানের মতে, এই যুদ্ধ শুরু করেছে ইজরায়েল এবং আমেরিকা। তাই যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রথমেই ইরানের বৈধ অধিকারকে স্বীকার করতে হবে (Middle East Crisis)। তেহরানের দাবি, আন্তর্জাতিক স্তরে তাদের যে অধিকার রয়েছে, তা থেকে ইরানকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই সংঘাতে অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় নিতে হবে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে।
তৃতীয় শর্তটি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে। ইরানের আশঙ্কা, ভবিষ্যতেও আবার হামলা হতে পারে। সেই কারণে তারা চায়, ভবিষ্যতে আর কোনও আক্রমণ করা হবে না— এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে আন্তর্জাতিক স্তরে। এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই তেহরান সংঘর্ষবিরতির বিষয়ে রাজি হবে বলে জানানো হয়েছে (Middle East Crisis)।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুদ্ধে ইতিমধ্যেই আমেরিকা এগিয়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইরানে আঘাত করার মতো আর তেমন কিছু বাকি নেই এবং আমেরিকা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
তবে ইরানের এই তিন শর্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কারণ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং তেল সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা এবং ইজরায়েল ইরানের শর্ত মানবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক মহল এখন মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।












