আলুর দাম না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন রাজ্যের বহু কৃষক। পশ্চিম মেদিনীপুরে (Ghatal) এক আলু চাষির মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে সেই সংকট সামনে এল। পরিবারের দাবি, আলু চাষে বড় ক্ষতির মুখে পড়ে মানসিক চাপে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা (Ghatal) এক নম্বর ব্লকের রাঙামাটি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষকের নাম রাখাল আড়ি। তাঁর বয়স আনুমানিক চল্লিশের কাছাকাছি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন রাখাল (Ghatal)। সেই চাষ করতে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই টাকা জোগাড় করতে স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়েছিল তাঁকে। নিজের জমি বলতে মাত্র দশ কাঠা। মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার।
পরিবারের সদস্যদের কথায়, মাঠে আলুর ফলন খারাপ হয়নি। কিন্তু বাজারে দাম এতটাই কম যে সেই খরচের টাকাও উঠছে না। বর্তমানে আলুর দাম প্রায় তিনশো কুড়ি টাকা কুইন্টাল বলে জানা গিয়েছে (Ghatal)।
এই পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে পরিবারের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই মানসিক চাপ থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই। পরিবারের দাবি, বাড়িতেই কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রাখাল। এরপর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত কৃষকের পরিবার এবং এলাকার মানুষের দাবি, আলু চাষে বড় ক্ষতির মুখে পড়েই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করছে।
অন্যদিকে চন্দ্রকোনার বিধায়ক অরূপ ধাড়া জানিয়েছেন, রাখাল আড়ি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। তাঁর কথায়, দলের পক্ষ থেকে মৃত কৃষকের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্যের আলু চাষিদের সংকট আবারও সামনে চলে এসেছে।













