আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের গুরুতর লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানাল ভারত (India Condemns)। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি বলেন, রমজানের পবিত্র মাসে সাধারণ মানুষের উপর এই ধরনের হামলা চালানো সম্পূর্ণ অমানবিক এবং ভণ্ডামির পরিচয়।
রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে তিনি (India Condemns) জানান, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘের নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। একদিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় সংহতির কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে রমজানের সময় সাধারণ মানুষের উপর নির্মম হামলা চালানো হচ্ছে—এই আচরণকে তিনি ভণ্ডামি বলে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ছয় মার্চ পর্যন্ত অন্তত একশো পঁচাশি জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় পঞ্চান্ন শতাংশই নারী ও শিশু। এই হামলার জেরে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে (India Condemns)।
হরিশ পার্বতানেনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সীমান্ত পেরিয়ে হওয়া সশস্ত্র হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতও তাঁর আহ্বানকে সমর্থন করছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন (India Condemns)।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর সামনে আসে।
এছাড়া আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে ভারত। হরিশ বলেন, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশগুলির বাণিজ্যিক দুর্বলতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ম এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনরায় জানিয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে ভারত জানিয়েছে, এটি এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় সমস্যা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ইসলামিক স্টেট, আল কায়দা এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির পাশাপাশি পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর ই তৈবা ও জইশ ই মহম্মদের মতো সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবও দেয় ভারত। হরিশ পার্বতানেনি বলেন, পাকিস্তান বারবার একই অভিযোগের তালিকা তুলে ধরে বৈঠকের সময় নষ্ট করছে।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তানের মানুষের জন্য ভারতের সাহায্য সব সময়ই অব্যাহত রয়েছে। আফগানিস্তানের চৌত্রিশটি প্রদেশ জুড়ে পাঁচশোর বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করছে ভারত। স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভারত সহযোগিতা করছে।
রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং আফগান রেড ক্রসের সঙ্গে মিলেও ভারত খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে কাজ করছে। গত তিন মাসে আফগানিস্তানের শিশুদের জন্য দশ লক্ষের বেশি টিকার ডোজ এবং সাড়ে নয় টন ক্যানসারের ওষুধ পাঠানো হয়েছে। আগামী মাসগুলিতে আরও এক কোটির বেশি প্রতিরোধমূলক টিকা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারত আফগানিস্তানে পঞ্চাশ হাজার টন গম, তিনশো আশি টন ওষুধ ও টিকা এবং চল্লিশ হাজার লিটার কীটনাশক সরবরাহ করেছে। গত বছর ভূমিকম্পের পরও খাদ্যসামগ্রী, ত্রাণ সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠিয়েছিল ভারত।
রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ দমন দফতরের সঙ্গে যৌথভাবে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্যও চিকিৎসা সামগ্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, আজ আফগানিস্তানে গেলে দেখা যাবে তরুণরা উৎসাহের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছে। আফগানিস্তানের ক্রিকেট দল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের মন জয় করছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের এই সাফল্য আফগানিস্তানের মানুষের কাছে বড় আনন্দের কারণ হয়ে উঠেছে।











