শুক্রবার থেকে এসআইআর ইস্যুতে ধর্মতলায় ধরনা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পাঁচ দিন ধরে অবস্থান মঞ্চেই বসে ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের বিধায়ক, সাংসদ, নেতা ও কর্মীরাও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিয়মিত ধরনা মঞ্চে আসছিলেন। সোমবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার অনুরোধ করেছিলেন। মঙ্গলবার আবারও তিনি দিদির (Mamata Banerjee) স্বাস্থ্যের কথা ভেবে কর্মসূচি শেষ করার আর্জি জানান।
অভিষেক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই মমতার (Mamata Banerjee) দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এটিই তাঁর লড়াইয়ের বড় জয়। তাই তিনি অনুরোধ করেন, দিদি যেন নিজের শরীরের কথা ভেবে ধরনা শেষ করেন এবং মানুষের কাছে পৌঁছনোর কাজ চালিয়ে যান। তিনি বলেন, পাঁচ দিন ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন হয়েছে এবং এবার নতুনভাবে লড়াই চালাতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়টি একটি বিশেষ মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যাঁদের নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই এই আন্দোলন করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন আদালতকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন ঘোষণা হলেও মামলার শুনানি চলবে এবং আদালতের হাতেই থাকবে বিষয়টি।
মমতা (Mamata Banerjee) জানান, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। সর্বোচ্চ আদালত সেই পথ খুলে দিয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, যদি কারও সঙ্গে অন্যায় হয় তাহলে তারা তৃণমূলের কাছে সাহায্য চাইতে পারে। এমনকি অন্য দলের কর্মীরাও চাইলে তাঁদের সাহায্য করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বিজেপিকে খুশি করতে বিচারকদের ভুল তথ্য দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, আগামী পঁচিশ তারিখ আবার এই মামলার শুনানি রয়েছে। ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেলেও মামলার গুরুত্ব কমবে না।
বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানুষের সমস্যা নিয়ে চিন্তা না করে রাজনৈতিক আক্রমণেই ব্যস্ত। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছে, কিন্তু কেন্দ্রের কোনও চিন্তা নেই। যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা আরও বলেন, কমিশন যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে তাদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাঁর মতে, অনেক প্রশ্নের উত্তর কমিশন দেয়নি বলেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ধর্মতলার মঞ্চ থেকে তিনি অতীতের আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় দীর্ঘ অনশন করেছিলেন তিনি। সেই আন্দোলনের কথা মনে করে তিনি বলেন, ইতিহাস বারবার নিজেকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের জয়যাত্রা যেমন এখান থেকেই শুরু হয়েছিল, তেমনই ভবিষ্যতেও নতুন লড়াইয়ের সূচনা এখান থেকেই হতে পারে।











