মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাঁচাতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার (Pakistan)। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হবে এবং সরকারি দপ্তর সপ্তাহে চার দিন করে কাজ করবে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী (Pakistan) জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ছাড়া অন্য সব সরকারি দপ্তর সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। একই সঙ্গে এই সপ্তাহ শেষ হওয়ার পর থেকে দেশের সব স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়াশোনা আপাতত অনলাইনে চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, অত্যাবশ্যক পরিষেবা ছাড়া সরকারি দপ্তরের প্রায় অর্ধেক কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এর ফলে জ্বালানি ব্যবহার কিছুটা কমবে বলে মনে করছে সরকার। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জ্বালানির বরাদ্দও অর্ধেক করে দেওয়া হবে (Pakistan)।
পাকিস্তানে (Pakistan) এই জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলা উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাতের জেরে ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান মূলত ওই পথেই প্রচুর পরিমাণে তেল আমদানি করে থাকে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার গভীর রাতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে পাকিস্তান (Pakistan) সরকার। সেই বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হারে পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এক লাফে পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়েছে পঞ্চান্ন পাকিস্তানি টাকা।
শুধু পেট্রল নয়, দ্রুতগতির ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল প্রায় দুইশো আশি টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিনশো পঁয়ত্রিশ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যেই ডিজেলের দাম প্রায় কুড়ি শতাংশ বেড়েছে।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক বলেন, পাশের একটি দেশে যে আগুন শুরু হয়েছে, তা এখন গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংকট কত দিন চলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেই বিষয়েও স্পষ্ট কোনও ধারণা নেই বলে জানান তিনি।
রবিবারও এই পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সেখানে জ্বালানি বাঁচাতে একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি দপ্তরে আংশিক বাড়ি থেকে কাজ এবং স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সেখানেই চূড়ান্ত করা হয়।











