মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ভারতীয় অর্থনীতিতেও (Rupee Fall)। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় শেয়ার বাজারে বড় পতন দেখা গিয়েছে। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ধাক্কা খেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সেনসেক্স ও নিফটির পাশাপাশি ভারতীয় টাকার দামেও বড় পতন হয়েছে (Rupee Fall)।
সোমবার বাজার খোলার পর দেখা যায়, মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম দাঁড়িয়েছে বিরানব্বই টাকা তেত্রিশ পয়সা। অর্থাৎ এক ডলার কিনতে এখন লাগছে বিরানব্বই টাকারও বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতীয় টাকার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় পতন (Rupee Fall)।
হিসেব বলছে, গত সপ্তাহের তুলনায় টাকার দাম প্রায় শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় বিরানব্বই টাকা তিরিশ পয়সা। তার আগে চার মার্চ ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম ছিল প্রায় বিরানব্বই টাকা সতেরো পয়সা। সোমবার আবারও সেই দাম কমে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে (Rupee Fall)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে তেলের দাম বাড়লে বেশি ডলার খরচ করতে হয়। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং ভারতীয় টাকার দাম কমতে থাকে।
এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে দেশের অর্থমন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই দশ দিনে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ত্রিশ শতাংশ বেড়ে গেছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় একশো সতেরো মার্কিন ডলার।
তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জেরেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। সোমবার সেনসেক্স দুই হাজার তিনশোরও বেশি পয়েন্ট পড়ে সাতাত্তর হাজারের নীচে নেমে যায়। অন্যদিকে নিফটির সূচক প্রায় তিন শতাংশ কমে তেইশ হাজার সাতশো তেতাল্লিশ পয়েন্টের নীচে নেমে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতি ও বাজারে তার প্রভাব আরও বাড়তে পারে।












