নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল বাংলায় আসার আগেই তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, অপরিকল্পিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চলবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি।
ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চ থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইতিমধ্যেই বাংলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। তাঁর দাবি, গত ডিসেম্বর মাসে যখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তখনই প্রায় আটান্ন লক্ষ মানুষের নাম কাটা গিয়েছিল। পরে আটাশ ফেব্রুয়ারি যে নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে আরও সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা তেষট্টি থেকে চৌষট্টি লক্ষে পৌঁছেছে বলে তাঁর দাবি। এর পাশাপাশি এখনও ষাট লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি জানান। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি চব্বিশ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘোষণার প্রায় তিন মাস আগে থেকেই বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেছিলেন যে বাংলায় এক কোটির বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। তাঁর মতে, এই ঘটনা কেবল কাকতালীয় হতে পারে না। তৃণমূলের একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও বহু মানুষের নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, কমিশন যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে তবে দেশের গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়বে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কমিশনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছিলেন কেন এই প্রক্রিয়ায় এত মানুষের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে তিনি দিল্লিতেও গিয়েছিলেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন।
এদিকে সূত্রের খবর, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়েই রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসছে। আগামী আট মার্চ রাতে কমিশনের প্রতিনিধিরা শহরে পৌঁছবেন। পরের দিন সকাল থেকে স্বীকৃত জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।











