ইজরায়েলের ভয়ংকর এক ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘ব্লু স্প্যারো’ (Blue Sparrow), যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘নীল চড়ুই’। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রই নাকি মহাকাশের দিক থেকে নেমে এসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপর ভয়ংকর হামলা চালায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ঘটে যায় এই ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। এই হামলার নেপথ্যে ছিল ইজরায়েলের অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ‘নীল চড়ুই’ (Blue Sparrow)।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, উৎক্ষেপণের পর এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় শেষ প্রান্ত পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। এরপর অভিকর্ষের টানে এবং নিজের জ্বালানির শক্তিতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সেটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে নেমে আসে (Blue Sparrow)। এর গতি এতটাই বেশি যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। সেই কারণেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অস্ত্রকে অনেক সময় মহাকাশ থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
জানা যায়, এই হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পনা করে চালানো হয়েছিল। যে সময় খামেনেই সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছিলেন, ঠিক সেই সময় লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ফলে বিস্ফোরণে একসঙ্গে বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরও মৃত্যু হয় (Blue Sparrow)।
প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নীল চড়ুই’ একটি অত্যাধুনিক আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা প্রায় এক হাজার দুইশো চল্লিশ মাইল, অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় দশমিক পাঁচ মিটার এবং ওজন প্রায় এক দশমিক নয় টন।
সাধারণত যুদ্ধবিমান থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর ব্যালিস্টিক প্রযুক্তিতে এটি অনেক উঁচুতে উঠে যায় এবং নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যেগুলির পাল্লা আলাদা আলাদা হতে পারে। এমনকি যেখানে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব শক্তিশালী, সেখানেও নিরাপদ দূরত্ব থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ফলে যে যুদ্ধবিমান থেকে এটি ছোড়া হয়, সেই বিমানকে আঘাত করা শত্রুপক্ষের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পুরাণে বলা হয় মৃত্যুর দেবতা যমের হাতে থাকে এক ভয়ংকর দণ্ড, যা দিয়ে যে কোনও শত্রুকে ধ্বংস করা যায়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অনেকটা সেই ভয়ংকর অস্ত্রের মতোই কাজ করে। ইজরায়েল যে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে এই হামলা চালাতে পেরেছে, তা তাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারির দক্ষতাকেই স্পষ্ট করে।
জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমানগুলিকে এই অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ওই বিমানগুলি খামেনেই যেখানে বৈঠক করছিলেন সেই স্থানের উপর একসঙ্গে প্রায় ত্রিশটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তার মধ্যে ছিল ভয়ংকর ‘নীল চড়ুই’ ক্ষেপণাস্ত্রও। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই এবং একাধিক শীর্ষ সেনা আধিকারিকের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।













