Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে দুবাই কাঁপলেও চুপ আরব দুনিয়া! ধর্ম নাকি কৌশল—কেন পাল্টা আঘাত নয়?
বিদেশ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে দুবাই কাঁপলেও চুপ আরব দুনিয়া! ধর্ম নাকি কৌশল—কেন পাল্টা আঘাত নয়?

middle east crisis 22
Email :4

গত তিন দশক ধরে বাহরিন, কাতার, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব নিজেদের স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ দেশ (Middle East Crisis) হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শুধু মার্কিন ঘাঁটি নয়, দুবাই ও আবুধাবির বিলাসবহুল হোটেল এবং আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবু সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে যাচ্ছে না অধিকাংশ আরব দেশ। প্রশ্ন উঠছে, এই সংযম কি কৌশলগত, না কি ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত?

মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই ইরান ইজরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা শুরু করে (Middle East Crisis)। খামেনেই শুধু রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না, তিনি বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় নেতা হিসেবেও বিবেচিত হতেন। ফলে তাঁর হত্যাকাণ্ড মুসলিম উম্মাহর আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।

এখন আরব দেশগুলির সামনে কঠিন সমীকরণ। তারা যদি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানে, তা হলে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের একাংশের চোখে তারা ইজরায়েল ও আমেরিকার পাশে দাঁড়ানো শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে (Middle East Crisis)। বিশেষ করে একজন শিয়া নেতার হত্যার পর সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তিন দিনের সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ইরানকে সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি দিয়েছে শুধু সৌদি আরব। খবর অনুযায়ী, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রয়োজনে পাল্টা হামলার অনুমতি দিয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও রিয়াধ চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে (Middle East Crisis) । এমনকি আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনাতেও বড় কোনও পাল্টা পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনেই নিহত হওয়ার দিনই যুবরাজ এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ইরানে হামলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যদিও প্রকাশ্যে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের কথাই বলছে (Middle East Crisis)।

মুসলিম উম্মাহ ধারণাটি কোরআন থেকে উদ্ভূত, যেখানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের একটি ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদায় হিসেবে দেখা হয়। ইতিহাসে বহুবার বাইরের শক্তির বিরুদ্ধে এই ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। যদিও শিয়া ও সুন্নি বিভাজন বহু পুরনো, তবু বিশেষ কিছু সময়ে সেই বিভাজন ভুলে ঐক্যের নজিরও রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, রুহোল্লা খোমেনি-র মৃত্যুর সময় ইরাকের সুন্নি নেতা সাদ্দাম হুসেন শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন। সিরিয়া ও লেবাননেও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা হয়েছিল। আবার গাজা ইস্যুতে ইজরায়েলবিরোধী অবস্থান শিয়া-সুন্নি বিভাজন অনেকাংশে আড়াল করেছে।

এই মুহূর্তে উপসাগরীয় দেশগুলি ইরানের হামলার নিন্দা করলেও সরাসরি যুদ্ধে নামেনি। তাদের অনেকেই মার্কিন ঘাঁটি থাকলেও ইরানে হামলার জন্য নিজেদের আকাশপথ ব্যবহার করতে দেয়নি। কারণ একদিকে মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা দরকার, অন্যদিকে অর্থনীতি, তেল স্থাপনা ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তাও রক্ষা করতে হবে।

আরও একটি বড় আশঙ্কা কাজ করছে। ইরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আরব দেশগুলি আঘাত করলে তাদের শাসকদের প্রাসাদ লক্ষ্য করা হবে। ফলে সরাসরি সংঘাতে জড়ালে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ হতে পারে।

তার উপর ইরান নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবিরোধী ইসলামী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। আরব দেশগুলি যদি এখন আঘাত হানে, তেহরান তা মুসলিম বিশ্বের কাছে ‘পশ্চিমের দাসত্ব’ হিসেবে প্রচার করতে পারে। সেই সুযোগ দিতে চাইছে না অনেক দেশই।

খামেনেই ও অন্য শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ইরানে ‘শহিদ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কুম শহরের জামকারান মসজিদের উপর লাল পতাকা ওড়ানো হয়েছে, যা শিয়া প্রথায় শহিদের রক্তের প্রতীক। ফলে ধর্মীয় আবেগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, আরব দেশগুলির সংযমের পিছনে কৌশল, নিরাপত্তা স্বার্থ এবং ধর্মীয় সমীকরণ—সব কিছুরই ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আপাতত সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটছে উপসাগরীয় বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts