বিধানসভা ভোটের আগে তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত আসনগুলিতে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। এই আবহে নজরুল মঞ্চে দলের সংগঠকদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তফসিলির সংলাপ কর্মসূচি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আগামী দুই মাস বাড়ি বাড়ি পৌঁছতে হবে।
অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে তফসিলি সম্প্রদায়ের উপর কীভাবে অত্যাচার হচ্ছে, তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তফসিলিদের জন্য নেওয়া উদ্যোগও প্রচার করতে হবে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের তফসিলি মহিলারা মাসে ১৭০০ টাকা পাচ্ছেন, বছরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা। পাঁচ বছরে এই অঙ্ক এক লক্ষ দু’হাজার টাকায় পৌঁছবে।
তিনি (Abhishek Banerjee) জানান, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৮৪টি তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। তাই কর্মীদের মাঠে নেমে প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না, বুথে বুথে গিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। একটি বুথেও যদি কেউ বিজেপিকে ভোট দেন, তাঁকেও বোঝাতে হবে যে প্রয়োজন হলে তৃণমূল পাশে থাকবে।
এরপরই বিজেপিকে ৫০ আসনের নিচে নামানোর ডাক দেন অভিষেক। তাঁর দাবি, বাংলায় যদি বিজেপি ৫০-এর নিচে নেমে যায়, তবে ২০২৯-এর আগেই কেন্দ্রে সরকার বদল হতে পারে।
এসআইআর ইস্যুতেও তিনি (Abhishek Banerjee) কড়া আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিনা কারণে বিচারাধীন রেখে দেওয়া হয়েছে। এই মানুষরাই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচন করেছেন। তাহলে তাঁদের নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গণতন্ত্রের মর্যাদা কোথায় থাকে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারকেও নিশানা করে অভিষেক বলেন, ব্রিটিশদের মতো শাসন চলছে। তাঁর দাবি, বাংলাই আগামী দিনে দেশকে পথ দেখাবে।
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। রথযাত্রা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে বলেন, রথ যত্ন করে রাখতে বলুন, ওই রথেই উল্টো পথে ফিরতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২৫০ আসন নিয়ে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে এই মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।













