ভুল মানুষের জীবনেরই অংশ। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনের শিখরে পৌঁছে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় দীর্ঘ পথচলাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। একদা বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য নামে পরিচিত মুকুল রায়ের (Mukul Roy) জীবনেও সেই বাস্তব ছবিই ধরা পড়ল। রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ দাপটের পর জীবনের শেষ পর্বে কার্যত আড়ালে চলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। এক সময় যে নেতা সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, শেষদিকে তিনি রাজনীতির মূল স্রোত থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করে কংগ্রেসের হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান মুকুল রায়ের (Mukul Roy) । পরে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দলে যোগ দেন তিনি। উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচড়াপাড়া থেকে দিল্লির ক্ষমতার রাজনীতি— সর্বত্রই তাঁর সংগঠনিক দক্ষতার ছাপ দেখা গিয়েছে (Mukul Roy) । দলের ভিত শক্ত করা, কৌশলী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাফল্যের কারণেই রাজনীতির চাণক্য তকমা পেয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও দলের বিস্তারে ভূমিকা নেন মুকুল।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন তিনি (Mukul Roy) । জগদ্দল কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া, রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব সামলানো— সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ছিল দ্রুত ও উল্লেখযোগ্য। রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলে জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। সারদা ও নারদা কাণ্ডের পর দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয় (Mukul Roy) । পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুকুল রায়, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় মোড় হিসেবে ধরা হয়। প্রথমদিকে সক্রিয় থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে ফিরে এলেও আগের প্রভাব আর ফিরে পাননি তিনি।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে (Mukul Roy) । স্ত্রীর মৃত্যুর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘদিন ডায়াবিটিস ও স্মৃতিভ্রংশজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি এবং বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত নিউ টাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হন একদা বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই নেতা। তাঁর মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।












