প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত নৈশভোজে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ভয়াবহ যানজটের (Delhi Traffic) কারণে সেখানে পৌঁছতে পারেননি মার্কিন সংস্থা অ্যাডাপশন ল্যাবসের প্রধান সারা হুকার। বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে পৌঁছতে তাঁর প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি পৌঁছনোর আগেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে হোটেলে খাবার অর্ডার করতে হয় তাঁকে।
একই পরিস্থিতির মুখে পড়েন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক (Delhi Traffic)। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেরিতে পৌঁছে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে রসিকতার সুরে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারলেও দিল্লির যানজট কমাতে পারেনি।
রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হওয়ার পর থেকেই শহরে চরম যানজটের (Delhi Traffic) ছবি সামনে আসে। প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি থাকায় অতিথিদের দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সভাস্থলের আশপাশে ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশনও বন্ধ থাকায় বহু বিদেশি অতিথি ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার প্রতিনিধিদের কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বৃহস্পতিবার প্রায় থমকে যায় রাজধানীর স্বাভাবিক গতি (Delhi Traffic)। বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে আটকে থাকেন এবং অসুস্থতার ঘটনাও ঘটে। নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছতে না পারায় বিচারপতি ও আইনজীবীদের দেরি হয় এবং শুনানি শুরু হতেও বিলম্ব ঘটে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি ও তৃণমূল প্রশ্ন তোলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র, রাজ্য ও পুরসভা সব জায়গায় একই দলের সরকার থাকা সত্ত্বেও এমন বিশৃঙ্খলা কেন ঘটল তা নিয়ে জবাবদিহি প্রয়োজন। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা কটাক্ষ করে বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানকে ছবি তোলা ও প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে এবং উদ্ভাবনের আলোচনা হওয়ার বদলে তা প্রদর্শনীর রূপ নিয়েছে।













