ভোটের আবহে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছার মধ্যেও উঠে এল রাজনৈতিক ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর এবার রাজ্যপাল আরএন রবির (Bengal Governor) বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। নববর্ষ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের বক্তব্যে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধার’-এর কথা উঠে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যপাল। পরে লোকভবনে নববর্ষ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি (Bengal Governor)। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, সারা দেশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিরা উদযাপন করেন।
এরপরই তিনি বাংলার অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, একসময় দেশের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক রাজ্য ছিল বাংলা। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতিতে বাংলার বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান বদলেছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাজ্যপাল (Bengal Governor) বলেন, আগে যেখানে বাংলার অবদান অনেক বেশি ছিল, এখন তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। অন্য অনেক রাজ্য অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে গিয়েছে বলেও তিনি জানান। শিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষেত্রেও বাংলার পিছিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নববর্ষের দিনে এই ধরনের কথা বলার কারণও ব্যাখ্যা করেন রাজ্যপাল। তাঁর মতে, নতুন বছর মানেই নতুন করে ভাবার সময়। নিজের অবস্থান বুঝে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার সময়। তাই এই দিনটি সংকল্প নেওয়ার দিন বলেই তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে বাংলার উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যুব সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না, মানুষের মধ্য থেকেই আসতে হবে।
শেষে তিনি বলেন, দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাকে আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পেতে হবে এবং দেশের উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
রাজ্যপালের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যপাল বাংলার সংস্কৃতি বা ইতিহাস সম্পর্কে ঠিকভাবে জানেন না। তাঁর এই মন্তব্য নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।












