আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ (RG Kar Case) হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার ভূমিকায় সরাসরি প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শনিবার আর জি কর হাসপাতালে (RG Kar Case) গিয়ে তিনি দাবি করেন, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সীমা পাহুজাকেও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
এ দিন আর জি কর হাসপাতালের (RG Kar Case) এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে যান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ওই বিল্ডিংয়েই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেখানে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তদন্তের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘর খোলা হয়নি। সেই ঘর প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “যে ঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যেতে পারত, সেই ঘর এখনও তালাবন্ধ এবং সিল করা রয়েছে। আমি নিজে গিয়ে দেখে এলাম। কেন সেই ঘর খোলা হয়নি, সেটাই বড় প্রশ্ন। (RG Kar Case)”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে (RG Kar Case) একটি সিঁড়ি দিয়ে একটি মৃতদেহ নামানো হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সময় এক নার্স ভিডিও করেছিলেন। পরে সেই ভিডিও সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজা নিয়ে নেন বলে দাবি তাঁর। অভিজিতের অভিযোগ, নার্সকে নিজের মোবাইল থেকে ভিডিও মুছে ফেলতেও বলা হয়েছিল।
বিজেপি সাংসদের দাবি, “নার্সকে বলা হয়েছিল ভিডিও না মুছলে তিনি বিপদে পড়বেন। তারপর ভিডিওর কপি নেওয়া হলেও আর কখনও সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।”
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ওই সিঁড়ি সরাসরি এমার্জেন্সি বিভাগের দিকে যায় এবং সেই পথ দিয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সম্ভব। তাঁর প্রশ্ন, এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনও পর্যন্ত কেন খতিয়ে দেখা হয়নি?
শুধু তাই নয়, সীমা পাহুজা কার প্রভাবে কাজ করেছিলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতির পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের ঘটনাতেও ওই আধিকারিকের ভূমিকা থাকতে পারে। তাই তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলেও দাবি করেন অভিজিৎ।
তিনি বলেন, “এটা খুব স্বাভাবিক তদন্তের অংশ ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, কে তাঁকে প্রভাবিত করেছিল?”
নতুন সরকার গঠনের পর ফের সামনে এসেছে আর জি কর মামলার ফাইল। ইতিমধ্যেই ওই সময় তদন্তের দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিকে নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানির জন্য বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই আবহেই আর জি কর হাসপাতালে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে। হাসপাতালের ভিতরে বেআইনি পার্কিং এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রোগী বা তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে কেউ যাতে টাকা দাবি করতে না পারে, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।













