রাজবীর দে বিগ বসের (Big Boss Bangla) ঘরে ঢোকার পর থেকেই যেন বদলে গিয়েছে খেলার পরিবেশ। শিলিগুড়ির এই মডেল ও অভিনেতা নতুন সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেই নজর কেড়েছেন। কখনও জয়িতা চ্যাটার্জির পাশে দাঁড়িয়ে, কখনও সৃজলা গুহের সঙ্গে মিষ্টি কথায়, আবার কখনও নন্দিনী দত্তকে নিয়ে খুনসুটিতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ফলে রাজবীরের খেলা এখন শুধু ঝগড়া বা প্রতিযোগিতায় আটকে নেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সম্পর্কের নতুন সমীকরণও (Big Boss Bangla)।
সম্প্রতি (Big Boss Bangla) রাতের একটি ঘটনায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। আলো নিভে যাওয়ার পর সৃজলার বিছানার পাশে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতে শোনা যায় রাজবীরকে। সৃজলার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তিনি জানান, তাঁকে তাঁর খুব পছন্দ এবং ভাল লাগে। রাজবীরের এমন কথায় সৃজলাও হেসে লজ্জা পান। তিনিও মজা করে বলেন, এ বার থেকে তিনি পাগলের মতো থাকবেন। রাজবীর বিগ বসের ঘরে আসার পর থেকেই সৃজলার মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে এই ঘটনার পর আরও জোরালো হয়েছে জল্পনা।
তবে সৃজলাই একমাত্র নন। এর পর রাজবীরের নজর যায় নন্দিনী দত্তের দিকেও। কাজের ফাঁকে নন্দিনী জানান, তাঁর ফোনের ওয়ালপেপারে বিগ বসের ট্রফির ছবি রয়েছে এবং এ বার ট্রফি জেতাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তা শুনে রাজবীর সাফ জানিয়ে দেন, এ বারের ট্রফি তিনিই জিতবেন। নন্দিনীকে পরের বার চেষ্টা করার কথাও বলেন তিনি। নন্দিনী অবশ্য পাল্টা জানান, তাঁর হাতে এত সময় নেই এবং এ বারই তিনি ট্রফি জিতবেন। কথার মাঝেই রাজবীর নন্দিনীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে কিউট বলেও মন্তব্য করেন।
রাজবীরের এই ফ্লার্টের খেলা অবশ্য একেবারে নতুন নয় (Big Boss Bangla)। এর আগের পর্বেই জয়িতা চ্যাটার্জির জন্য তাঁকে গোটা ঘরের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছিল। মনামী ঘোষের ঠিক করে রাখা সিঙ্গল খাট দখল করে নেন রাজবীর। তা নিয়ে ঘরে শুরু হয় তুমুল অশান্তি। কিন্তু বিছানা ছাড়তে রাজি হননি তিনি। বরং শর্ত দেন, সবাইকে কথা দিতে হবে যে জয়িতাকে কেউ টার্গেট করবে না। তবেই তিনি খাট ছাড়বেন।
শুধু তাই নয়, রাজবীর গোপনে জয়িতাকে আরও একটি কথা দিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন্সির চাবি তাঁর হাতে এলে সেটি জয়িতার হাতে তুলে দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। দুর্নিবার সাহার সঙ্গে জয়িতার ঝামেলা হলেও তাঁকে সবার আগে জয়িতার পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়।
এর মধ্যেই ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে গ্রামের মোড়লের দায়িত্ব পেয়ে রাজবীরের অন্য রূপও দেখা যায়। নিজের নিয়মে খেলা চালাতে গিয়ে তিনি ঘরের কয়েক জনকে ‘ভেড়া’ এবং ‘চাঙ্গি মুঙ্গির দল’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হন তনুশ্রী রায় দাস, নিরঞ্জন মণ্ডল, দীপেন্দু বিশ্বাস এবং সায়ক চক্রবর্তী। ফলে সম্পর্কের টানাপড়েনের পাশাপাশি ঝামেলাতেও ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছেন রাজবীর।
এক দিকে জয়িতার জন্য বিছানা দখল করে গোটা ঘরের সঙ্গে লড়াই, অন্য দিকে সৃজলার সঙ্গে রাতের অন্ধকারে মিষ্টি কথাবার্তা এবং নন্দিনীর সঙ্গে খুনসুটি। রাজবীরের এই আচরণ দেখে দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, সত্যিই কি তিনি একসঙ্গে তিন জনের মন জয়ের চেষ্টা করছেন? নাকি এর পিছনে রয়েছে বিগ বসের ট্রফি জেতার বড় কোনও কৌশল? আপাতত সেই উত্তরই খুঁজছেন দর্শক।








