কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) নাম উঠলেই প্রথমেই মনে পড়ে সরপুরিয়া আর বিশ্বখ্যাত মাটির পুতুলের কথা। যুগ বদলেছে, শিশুদের খেলনার ধরনও বদলেছে। কিন্তু কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মাটির পুতুল আজও নিজের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য এবং শিল্পগুণ ধরে রেখেছে। এবার সেই ঐতিহ্যের মুকুটে যোগ হল নতুন পালক। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মাটির পুতুল ভৌগোলিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিতে খুশির হাওয়া বইছে শিল্পী মহল থেকে শুরু করে গোটা জেলাজুড়ে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) বহু শতাব্দী ধরে বাংলার মৃৎশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঘূর্ণির অলিগলিতে গেলে দেখা যায় শিল্পীদের নিখুঁত হাতের ছোঁয়ায় তৈরি নানা ধরনের মাটির পুতুল। মানুষের মুখভঙ্গি, পশুপাখি, গ্রামীণ জীবন কিংবা ঐতিহাসিক চরিত্র— প্রতিটি পুতুলেই ফুটে ওঠে অসাধারণ বাস্তবতা। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারেও এই শিল্পকর্মের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
এই স্বীকৃতি পাওয়ার পিছনে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন শিল্পীরা (Krishnanagar)। তাঁদের অন্যতম সুবীর পাল জানান, বহু বছরের পরিশ্রমের ফল মিলেছে। তাঁর কথায়, এই স্বীকৃতি শুধু সম্মানই নয়, কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করে তুলবে। পাশাপাশি শিল্পীদের আয় বাড়বে এবং নতুন প্রজন্মও এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি আগ্রহী হবে।
শিল্পীদের (Krishnanagar) মতে, এই স্বীকৃতির আর একটি বড় সুবিধা হল, এখন আর অন্য কোনও জায়গায় তৈরি পুতুল কৃষ্ণনগরের নামে বাজারে বিক্রি করা সহজ হবে না। দীর্ঘদিন ধরেই নকল পণ্য বাজারে আসায় প্রকৃত শিল্পীরা ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন। এই স্বীকৃতি সেই সমস্যাও অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) মাটির পুতুল নিয়ে বহু গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। জনশ্রুতি রয়েছে, এক শিল্পীর তৈরি গবাদি পশুর মূর্তি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে, সেটিকে সত্যিকারের পশু ভেবে শকুন নেমে এসেছিল। সেই শিল্পী পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারেও সম্মানিত হন। সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যই আজ নতুন স্বীকৃতির মাধ্যমে আরও একবার বিশ্বদরবারে মর্যাদা পেল।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলার আরও কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও খাদ্যপণ্যও ভৌগোলিক স্বীকৃতি পেয়েছে। শিল্পীদের আশা, এই স্বীকৃতির ফলে কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনই এই প্রাচীন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার পরিবারের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।











