আমের লোভ দেখিয়ে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে সিআইএসএফ-এর এক জওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ওই জওয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রমাকান্ত বিশ্বকর্মা (Minor Molestation Case)। পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটির এই ঘটনা রবিবার রাতে সামনে আসে। কুলটি থানার সাঁকতোরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রথমে তাকে সাসপেন্ড করা হয় এবং পরে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে শীতলপুর এলাকায় সিআইএসএফ ক্যাম্পের কাছে ১০ বছরের এক নাবালিকা আম কুড়াতে গিয়েছিল (Minor Molestation Case)। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত জওয়ান রমাকান্ত বিশ্বকর্মা তাকে মিষ্টি আম দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নিজের কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ওই নাবালিকার সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাড়িতে ফিরে ওই নাবালিকা তার ঠাকুমাকে সব কথা জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের কোয়ার্টারে গেলে দেখা যায়, দরজায় তালা দিয়ে সে পালিয়ে গিয়েছে। এরপর কুলটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় (Minor Molestation Case)।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রবিবার রাতে শীতলপুর তিন নম্বর গেটের কাছে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে যোগ দেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য এবং প্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভরসা করে রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে, সেই বাহিনীর সদস্যের এমন আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক।
অন্যদিকে সিআইএসএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শৃঙ্খলা এবং সততার প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতেই রয়েছে।






