এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার জন্য বিজেপি বা নির্বাচন কমিশন দায়ী নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ভূমিকা ছিল।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী—তিনজনের সম্মতিতেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।
এই প্রসঙ্গেই কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, কমিশনের তিন সদস্যের একসঙ্গে থাকা ছবি প্রমাণ করে যে এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত কোনও এক জনের একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর বক্তব্য, তিন কমিশনার সর্বসম্মত ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর পরেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার জন্য বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করা ঠিক নয়। তৃণমূল কংগ্রেসই বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং সেই মামলার পরেই আদালত বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দিয়ে ভোটারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি যাচাই করা হয়েছিল। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যাচাইয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক আবেদনও জমা পড়ে।
আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই ভূমিকার কথাই তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে তৃণমূল একাধিক বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরে আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে নাম সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখার ব্যবস্থা করে।
মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনার কথা শুনেই তো সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’’ অর্থাৎ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার দায় নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।
তবে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত। এক দিকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ রয়েছে, অন্য দিকে নির্বাচন কমিশন বলছে, এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশ নাম ফেরানোর জন্য আপিলও করেছেন।
ফলে ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ভূমিকা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং বাদ পড়া নাম নিয়ে দায় কার—এসব প্রশ্ন ঘিরেই এখন নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।











