এলাহাবাদ হাই কোর্টের (Allahabad High Court) লখনউ বেঞ্চ গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস বা ২০ সপ্তাহ পার হওয়ার পর গর্ভস্থ ভ্রূণ যথেষ্ট বিকশিত হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে, সেটিকে মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাবে না। ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রেও গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যুকে পৃথক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বিচারপতি (Allahabad High Court) প্রশান্ত কুমারের লখনউ বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। মামলাটি ২০১৭ সালের একটি রেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ১৩ জুন ওই মহিলা তাঁর দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সীতাপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বিসওয়ান যাওয়ার জন্য জনসাধারণ এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। বিসওয়ান স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর গর্ভস্থ শিশুটিরও মৃত্যু হয়।
এর পর মৃত মহিলার পরিবার ক্ষতিপূরণের জন্য রেলওয়ে দাবি ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল গর্ভস্থ শিশুটিকে পৃথক যাত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। সেই কারণে শিশুটির মৃত্যুর জন্য আলাদা ক্ষতিপূরণের দাবিও খারিজ করা হয়েছিল।
সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে (Allahabad High Court) আবেদন করা হয়। মামলাটি খতিয়ে দেখে আদালত আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পাঁচ মাসের বেশি বয়সি গর্ভস্থ ভ্রূণকে ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে পৃথক সন্তান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সাত মাসের গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যু তাই মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।
আদালত (Allahabad High Court) আরও জানিয়েছে, গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হলে তার জন্য পৃথক ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার পরিবারের রয়েছে। এই মামলায় ২০১৬ সালে সংশোধিত রেল দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের নিয়ম অনুযায়ী গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর জন্য আট লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, এই মামলায় মায়ের মৃত্যুর জন্য প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি তাঁর গর্ভে থাকা সাত মাসের শিশুর মৃত্যুকেও পৃথক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেই কারণেই রেলকে আরও আট লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, আদালত গর্ভস্থ শিশুর জীবন ও তার ক্ষতির আইনি স্বীকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। পাঁচ মাস বা ২০ সপ্তাহের পর গর্ভস্থ ভ্রূণের শারীরিক বিকাশের বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, এমন অবস্থায় দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে সেটিকে শুধু মায়ের শারীরিক ক্ষতির অংশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ফলে রেল দুর্ঘটনা বা একই ধরনের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সঙ্গে গর্ভস্থ সন্তানেরও মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণের হিসাব কী ভাবে হবে, সেই প্রশ্নে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তটি নির্দিষ্ট মামলার তথ্য ও প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণ আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।










