লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) ছাত্র আন্দোলন নিয়ে করা এক মন্তব্যে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের তুলনা করেন। তাঁর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির মুখ্য সংগঠক অভিজিৎ দীপকে।
কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তসলিমা (Taslima Nasrin) বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন সব সময় ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। তিনি জানান, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের একটি দৃশ্য দেখে তাঁর বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। তাঁর দাবি, শুরুতে মনে হয়েছিল আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা। পরে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে। তাঁর অভিযোগ, সেই আন্দোলনের পিছনে উগ্রপন্থীদের প্রভাব ছিল এবং তার ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।
এই মন্তব্যের পরই প্রতিক্রিয়া দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি স্পষ্ট বলেন, তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশ বা নেপালের আন্দোলনের কোনও মিল নেই। তাঁর দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে শুরু হলেও এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে। আগামী দিনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে আবারও বড় আন্দোলনে নামতে পারে তাঁদের সংগঠন।
অভিজিৎকে ঘিরে অতীতে বিদেশি মদত এবং আর্থিক উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গেও তিনি মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, বিদেশে পড়াশোনার জন্য তিনি বাবার টাকার উপর নির্ভর করেননি। নিজের মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি পেয়েই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রয়োজনে সেই সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ করতে রাজি বলে জানান তিনি।
তসলিমার (Taslima Nasrin) মন্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। তাই বাংলাদেশ বা অন্য কোনও দেশের আন্দোলনের সঙ্গে এই আন্দোলনের তুলনা করা ঠিক নয় বলেই দাবি তাঁর।










