আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় বড় পরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে তদন্তকারী আধিকারিক বদল করা হয়েছে। অভয়ার বাবা-মায়ের অভিযোগ ছিল, আগের তদন্ত সঠিকভাবে এগোয়নি। সেই অভিযোগের পর তদন্তের দায়িত্ব থেকে সীমা পাহুজাকে সরিয়ে সন্দীপনী গর্গকে নতুন তদন্তকারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে (RG Kar Case)।
বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার (RG Kar Case) দ্বাদশ অগ্রগতি রিপোর্ট জমা পড়ে। সেখানে জানানো হয়, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী জানান, নতুন দল পুরো বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখছে।
অভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবীদের দাবি, আগের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসেনি। তাই নতুন তদন্তকারী দল কীভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। তাঁদের আশা, নতুন তদন্তে ঘটনার সমস্ত দিক উঠে আসবে (RG Kar Case)।
দুই হাজার চব্বিশ সালের আট আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল (RG Kar Case) কলেজে নাইট ডিউটিতে গিয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক। সেই রাতেই সেমিনার হল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে প্রথমে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। আদালত ধৃত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলেও, অভয়ার পরিবারের দাবি ছিল এই ঘটনায় আরও অনেকের ভূমিকা রয়েছে এবং সেই দিকটি এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি।
সরকার পরিবর্তনের পর এই মামলার তদন্ত নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই তৎকালীন কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় কোনও প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলই এখন তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। আগামী পনেরো সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেদিন আদালতে নতুন অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে পারেন তদন্তকারীরা।













