বাংলাদেশে টানা ভারী বৃষ্টির (Bangladesh Flood) জেরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের। পাশাপাশি সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ জন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, জুলাই মাসে সাধারণত গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় (Bangladesh Flood)। কিন্তু মাসের প্রথম ১১ দিনেই প্রায় ৩৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিক মাসিক বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হওয়ায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেও ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে (Bangladesh Flood)। আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রায় সাতাশ ঘণ্টায় ঢাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ফলে রাজধানীর বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের তিনটি প্রধান নদীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আরও কয়েকটি জায়গায় নদীর জল বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর একাধিক পয়েন্টে জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। দেশের ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টিতেই জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
টানা বর্ষণ এবং নদীর জল বাড়তে থাকায় অন্তত ছয়টি জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৯৫ জনের চিকিৎসা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরার কোনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।











