রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিধানসভায় পেশ করা হল নতুন গুন্ডাদমন বিল (Anti-goonda bill)। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা সোমবার এই বিল পেশ করেন। সরকারের দাবি, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, বেআইনি খনি ও বালি কারবারসহ বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড রুখতেই এই নতুন আইন আনা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের কিছু ধারায় পুলিশের ক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিধানসভায় বিলের (Anti-goonda bill) সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, তোলাবাজি, সন্ত্রাস এবং সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই নতুন আইন প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এই বিল কার্যকর হলে সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার সাহস কেউ পাবে না।
বিল (Anti-goonda bill) নিয়ে আলোচনার সময় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় হট্টগোলের মুখে নিজের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি। পরে তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সরকারের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পালও দাবি করেন, নতুন আইন রাজ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে (Anti-goonda bill)। তাঁর বক্তব্য, উস্কানিমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে বিলের (Anti-goonda bill) বিরোধিতা করে নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের মতো বিধান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিলটি আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানোর আবেদন জানান।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সুযোগ আরও বাড়বে। ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতির পাশাপাশি প্রয়োজনে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানাও ধার্য করা যেতে পারে।
বিলে সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞাও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বেআইনিভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, বৈধ ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি, বেআইনি খনি, বালি বা প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন এবং বন ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করার মতো অপরাধ এই আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে।












