বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে সিআইডির তৃতীয় তলবও এড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ভবানীভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিআইডিকে চিঠি পাঠিয়ে জানান, তিনি বর্তমানে কলকাতার বাইরে রয়েছেন এবং তাই হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।
এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ঠিক সেই দিনই সই জালকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট নথিতে ওই কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই সেখানে যান তাঁরা।
একদিকে কালীঘাটে তদন্তকারীদের তৎপরতা, অন্যদিকে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সিআইডিকে চিঠি দিয়ে জানান, তিনি দিল্লিতে থাকায় নির্ধারিত দিনে হাজির হতে পারবেন না। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সেই কারণেই তিনি আরও সময় চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এটি প্রথম নয়। এর আগেও দু’বার সিআইডির তলব এড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রথমবার হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল জুন মাসের শুরুতে। তখন তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্তকারীদের কাছে সময় চেয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয়বারও তিনি কলকাতার বাইরে থাকার কারণ দেখিয়ে হাজিরা দেননি।
প্রথম তলবের পর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁর প্রতিনিধির হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই নোটিসে পরবর্তী হাজিরার তারিখও উল্লেখ ছিল। কিন্তু পরবর্তী দু’টি তলবেও তিনি ভবানীভবনে যাননি।
এদিকে সিআইডির তলব এড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, তদন্তে সহযোগিতা না করে কেন বারবার সময় চাওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবারই বিষয়টি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি একদিন না একদিন হতেই হবে।
সই জালকাণ্ডের তদন্ত এখন কোন দিকে এগোয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কবে সিআইডির সামনে হাজির হন, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।












